জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদস্বাস্থ্য পরামর্শ

কন্যা শিশুর লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

কন্যা শিশুর লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

মিডিয়া মিহির: ইমাম মূসা আল-কাযিম (আ.)–এর একটি রেওয়ায়েত থেকে জানা যায় যে, ছয় বছর বয়স অতিক্রম করার পর কন্যা শিশুদের ক্ষেত্রে আচরণগত সীমারেখা রক্ষা করা আবশ্যক, যাতে বিচ্যুতি ও যৌন উদ্দীপনার সম্ভাব্য ক্ষেত্রসমূহ প্রতিরোধ করা যায়।

শৈশবকাল ভালোবাসা, স্নেহ ও মনোযোগের প্রাচুর্যে ভরা একটি সময়। তবে এই ভালোবাসা ও মনোযোগ অবশ্যই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হওয়া উচিত।

ইমাম মূসা আল-কাযিম (আ.) বলেন—

إِذَا أَتَتْ عَلَى الْجَارِيَةِ سِتُّ سِنِينَ لَمْ يَجُزْ أَنْ يُقَبِّلَهَا رَجُلٌ لَيْسَتْ هِيَ بِمَحْرَمٍ لَهُ وَلَا يَضُمَّهَا إِلَيْهِ

“যখন কোনো কন্যা শিশু ছয় বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন যে ব্যক্তি তার মাহরাম নয়, তার জন্য তাকে চুম্বন করা কিংবা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরা বৈধ নয়।” [ওসায়েলুশ শিয়া, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৮]

যদিও ইসলামে শিশুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, আদর-স্নেহ ও চুম্বনের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, তবে এসব নির্দেশনা শর্তহীন নয়। নির্দিষ্ট একটি বয়সের পর নামাহরামদের পক্ষ থেকে এ ধরনের শারীরিক স্নেহ প্রদর্শন অনুমোদিত নয়।

এ বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য যে, কোনো রেওয়ায়েতে দেখা যায় না যে কন্যা শিশুরা বালেগ হওয়ার পূর্বেই হিজাব বা নির্দিষ্ট পোশাক পরতে বাধ্য ছিল, কিংবা তাদের পুরুষ বা বালকদের সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে রাখতে বলা হয়েছে। তবে ছয় বছর বয়স অতিক্রম করার পর নামাহরামদের দ্বারা চুম্বন করা বা কোলে নেওয়ার মতো ঘনিষ্ঠ আচরণ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এই সমস্ত দিকনির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মানসিক, নৈতিক ও চারিত্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অল্প বয়সেই যৌন উত্তেজনা বা আচরণগত বিচ্যুতির সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো থেকে তাদের সুরক্ষা প্রদান করা।

সূত্র: কুরআন ও হাদিসের আলোকে যৌন শিক্ষা, পৃষ্ঠা ১২০

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button