ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী: আয়াতুল্লাহ মিলানি মাশহাদের হাওজার সত্যিকারের পুনর্জাগরণকারী
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হাদি মিলানি ছিলেন মাশহাদের হাওজা-ই-ইলমিয়ার প্রকৃত পুনর্জীবনদাতা, এবং এই মহান ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাঁর প্রতি ঋণী। তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বকে সমন্বিত ও বহুমাত্রিক বলে বর্ণনা করেন—আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দৃষ্টান্ত।
আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোহাম্মদ হাদি মিলানির স্মারক মহাসম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির সদস্যদের সাথে সাক্ষাতে ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা-এর বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এই সাক্ষাতে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী সম্মেলন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, আয়াতুল্লাহ মিলানি ছিলেন একটি সর্বাঙ্গীণ ব্যক্তিত্ব—আধ্যাত্মিকতা, নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা—সব ক্ষেত্রেই তিনি অনন্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন: আয়াতুল্লাহ মিলানি সত্যিই মাশহাদের হাওজা-ই-ইলমিয়ার পুনর্জাগরণকারী ছিলেন এবং এই হাওজা তাঁর প্রতি ঋণী।
ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, ব্যক্তিগত চরিত্রে আয়াতুল্লাহ মিলানি ছিলেন মর্যাদাবান, স্থিতধী, একইসঙ্গে বিনয়ী ও বন্ধুদের প্রতি বিশ্বস্ত। তাঁর হৃদয়ে ছিল কোমলতা, আর রুচিতে কবিতার সূক্ষ্ম নান্দনিকতা।
তিনি যোগ করেন, আয়াতুল্লাহ মিলানি ছিলেন মহান আলেম ও উচ্চকাতারের ফকিহ। তিনি নায়েনি এবং শাইখ মোহাম্মদ হোসেইন এসফাহানির মতো মহান শিক্ষকের সান্নিধ্যে শিক্ষালাভ করেন। পাঠদানের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ছিল প্রাঞ্জল, এবং তিনি বহু মেধাবী ছাত্র গড়ে তুলেছেন।
ইমাম খামেনেয়ী তাঁর আরেকটি দিক হিসেবে বলেন—তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক পথিক, সুরুফ ও সুলুকের মানুষ। একইসঙ্গে তিনি তাঁর সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলির কেন্দ্রেও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। ষাটের দশকের গোড়ার দিকের আন্দোলনের সূচনাকালে তিনি ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। ইমাম খোমেইনি (রহ.) গ্রেফতার হওয়ার পর তেহরানে তাঁর সফর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রভাবশালী উদ্যোগের উদাহরণ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলনের সমর্থনে আয়াতুল্লাহ মিলানির জারি করা দৃঢ়, প্রভাবশালী ও যুক্তিসমৃদ্ধ ঘোষণাপত্রসমূহ ছিল তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার উজ্জ্বল নিদর্শন। ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর তুরস্ক নির্বাসনের পর তাঁর সমর্থনে লেখা চিঠিটিকে তিনি একটি ঐতিহাসিক নথি হিসেবে বর্ণনা করেন।
ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আয়াতুল্লাহ মিলানি বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার সংগ্রামী মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সাথে নিজেকে বেঁধে রাখতে কখনোই রাজি হননি।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সম্মেলন আয়াতুল্লাহ মিলানির বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব ও অবদানকে মানুষের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরার পথ তৈরি করবে।
সাক্ষাতের শুরুতে হুজ্জাতুল ইসলাম ও মুসলিমিন মারভি, তাওলিয়্যত্-এ আস্থান-এ কুদসে-এ রাজভিী, সম্মেলনের লক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক কমিটি এবং মাশহাদ ও কারবালা মোয়াল্লায় অনুষ্ঠিত প্রাক-আলোচনা অধিবেশনের বিবরণ উপস্থাপন করেন।



