সফল দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি সমকক্ষতা; পূর্ব-পরিচয়ের বন্ধুত্ব আবশ্যক নয়
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: দাম্পত্য কেবল অনুভূতির সমষ্টি নয়; এটি এক ক্ষুদ্র সমাজব্যবস্থা, যেখানে দুই সঙ্গীকে নানামাত্রায় পরস্পরের সমতুল ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। তাই বিয়ের পূর্ববর্তী বন্ধুত্বকে প্রেমের মোড়কে ঢেকে বিবাহের প্রধান নির্ণায়ক বলে গণ্য করা নিছক ভ্রান্ত ধারণা।
সফল দাম্পত্যের প্রধান ভিত্তি হলো নারী ও পুরুষের মধ্যে সমতা, সামঞ্জস্য ও মানসিক সমকক্ষতা। বিয়ের আগে বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলাই যে আবশ্যক—এ ধারণার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।
বহু তরুণ-তরুণী মনে করে যে পরস্পরকে সত্যিকারভাবে জানতে হলে বিয়ের আগে কিছুদিন বন্ধুত্ব থাকা প্রয়োজন, যাতে প্রত্যক্ষভাবে একে অপরের স্বভাব, চরিত্র ও আচরণ বিচার করা যায়।
এই প্রবণতা আজকের নবযুবকদের মধ্যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—উভয় রূপেই দৃশ্যমান। তাদের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ছায়াতেই কেবল তারা একে অপরের মনন, ব্যক্তিত্ব ও আচরণ সম্পর্কে অবহিত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ যৌথ জীবনের দৃঢ় ভিত রচনা করতে সক্ষম হয়।
কিন্তু বিয়ের পূর্ববর্তী এই বন্ধুত্ব—যাকে ভুল করে অনেকেই “প্রেম” বলে অভিহিত করে—বিবাহের প্রকৃত নির্ণায়ক নয়। কারণ, বিবাহ হলো এক ক্ষুদ্র সমাজ—পরিবার—গঠনের গুরুদায়িত্ব, যেখানে দুই মানুষকে বহুমাত্রায় পরস্পরের উপযোগী, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সমকক্ষ হতে হয়। অতএব প্রকৃত নির্ধারক হলো দাম্পত্য-সমতা; এই সামঞ্জস্য রক্ষিত থাকলে বিয়ের আগে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার কোনো প্রয়োজন থাকে না।
তার উপর ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্বের আবহে যে ঘনিষ্ঠতা জন্ম নেয়, তা অধিকাংশ সময় জ্ঞানবর্ধক হওয়ার বদলে কামনার প্রদীপ প্রজ্বলিত করে এবং বিবেচনার আলোকে ম্লান করে দেয়। প্রায়ই দেখা যায়, মানুষ নিজেকে প্রকৃত রূপে প্রকাশ করে না; কিংবা প্রেমের আবেগে অপর পক্ষের দোষত্রুটি ও সম্পর্কের বিভিন্ন দিক যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পারে না।
উৎস: বই “বিষাক্ত নির্বাচন”, পৃষ্ঠা ১৪৯ ।



