ভাষার খেলায়—শিশুর আচরণ সংশোধনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ উপায়
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভাষার খেলায়—শিশুর আচরণ সংশোধনের সবচেয়ে ফলপ্রসূ উপায়
মিডিয়া মিহির: শিশুর ভুল আচরণ সংশোধনে ধমক, তিরস্কার বা অপমান কখনোই সমাধান নয়; বরং তা তার আত্মসম্মান ভেঙে দেয় এবং ভয়কে স্থায়ী করে। শিশুর জগৎ হলো খেলা ও কল্পনা—তাই তার ভুল সংশোধনের শ্রেষ্ঠ উপায়ও সেই ভাষাতেই, খেলার ছন্দে, কোমল ইঙ্গিতের মাধ্যমে।
শিশুর ভুল শুধরাতে খেলতে খেলতে তাকে বকাবকি করবেন না; এতে তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায়। সরাসরি সমালোচনা করার পরিবর্তে, তার নিজের ভাষায় ও খেলাধুলার আবহে তাকে বোঝান।
অনেক সময় শিশুর চরিত্র-গঠনের সবচেয়ে গভীর শিক্ষা কোনো ক্লাসরুমে নয়, খেলার মাঝেই ঘটে। খেলার সময়—
১.শিশুর স্বভাব খুলে যায়
২.কল্পনা শক্তি প্রসারিত হয়
৩.সে নিজের সীমা চিনতে শেখে
৪.নিয়ম মানা ও শেয়ার করা শেখে
কিন্তু যখন—
১.তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য
২.অপমান
৩.তিরস্কার
৪.তুলনা
এর সঙ্গে খেলা মিশে যায়, তখন খেলার মাঠ শিক্ষার জায়গা না হয়ে পরাজয় ও ভয়-এর জায়গা হয়ে ওঠে।
শিশুর সাথে খেলায় অংশ নেওয়ার সময় যদি—
১-সে নিয়ম না মানে
২-সাথীদের সাথে রূঢ় আচরণ করে
৩-জেদ ধরে
৪-হেরে গিয়ে কান্না করে
তখন সরাসরি বলবেন না:
❌ “তুমি খারাপ”
❌ “তুমি সব সময় এমন করো”
❌ “তোমার কখনো শোধরাবে না”
বরং—
১. খেলার ভেতর চরিত্র তৈরি করে ইঙ্গিত দিন
২. খেলনাকে “শিক্ষক” বানিয়ে কথা বলান
৩. গল্পের ছলে নিয়ম বোঝান
৪. ভুলের বদলে সঠিক আচরণকে প্রশংসা করুন
এই পদ্ধতিতে—
১.শিশুর মর্যাদা রক্ষা পায়
২.আত্মবিশ্বাস বাড়ে
৩.শেখা আনন্দের হয়
৪.আচরণ স্থায়ীভাবে সংশোধিত হয়
শিশুর ভাষাই তার কাছে সবচেয়ে বোধগম্য
শিশু যুক্তির চেয়ে বেশি বোঝে—
১.গল্প
২.চরিত্র
৩.খেলা
৪.অভিনয়
৫.হাসি
তাই তার ভুল আচরণ সংশোধনে সবচেয়ে সফল হয়:
– খেলার নিয়ম দিয়ে বোঝানো
– পুতুল, ব্লক, গাড়ি, বলকে “কথক” বানানো
– অভিনয়ের মাধ্যমে সঠিক আচরণ দেখানো
উদাহরণ : যদি শিশু খেলায় চিৎকার করে—
বলুন: দেখো নরম আওয়াজে খেললে বলটাও খুশি থাকে।” যদি নিয়ম না মানে— আজ আমরা এমন হিরো হব যে নিয়ম মেনে খেলতে পারে। যদি সাথীকে ঠেলে দেয় আমাদের দল শুধু সেইসব খেলোয়াড় নেয় যারা বন্ধুদের নিরাপদ রাখে।”
এভাবে— ভয় নয়, বোঝাপড়া জন্ম নেয়।
উপসংহার
১.বকাঝকা সাময়িকভাবে চুপ করায়
২.কিন্তু খেলা ও ভাষার মাধ্যমে শেখানো চরিত্র গড়ে তোলে তাই শিশু-শিক্ষার সোনালী নীতি— ধমক নয়—ভাষার খেলাই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক।
তথ্যসূত্র: খেলায় শিশু: ইসলামের দৃষ্টিতে, পৃষ্ঠা ১৩৪।



