কর্মের মধ্যেই ইবাদত: ইমাম বাকির (আ.)-এর দৃষ্টিতে দৈনন্দিন জীবনই ইবাদত
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: ইবাদত কি কেবল নির্জন সাধনায় সীমাবদ্ধ? নাকি মানুষের দৈনন্দিন পরিশ্রম, জীবিকা ও সেবার মধ্যেও তার গভীর অর্থ নিহিত? ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)-এর জীবন থেকে বর্ণিত এক অনন্য ঘটনার আলোকে আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদী দায়িত্ব পালনের বিস্তৃত ও জীবন্ত অর্থ তুলে ধরেছেন—যেখানে জিহাদ থেকে শুরু করে জীবিকা অর্জন পর্যন্ত সবই আল্লাহর পথে চলার অংশ।
ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রখ্যাত চিন্তাবিদ মরহুম আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদী তাঁর এক বক্তৃতায় “দায়িত্ব পালন” বিষয়টি গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেন, যা এখানে পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে হিজাজ অঞ্চলে একদিন এক সুফি দেখলেন—ইমাম বাকির (আ.) নিজ হাতে ক্ষেতে কাজ করছেন; কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ছেন এবং গাছে পানি দিচ্ছেন। সুফি মনে মনে ভাবলেন, দেখো তো! তিনি দুনিয়ার মোহে কতটা জড়িয়ে পড়েছেন। একটু উপদেশ দেওয়াই যায়!তিনি এগিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! দুনিয়ার জন্য এত পরিশ্রম করছেন? যদি এই অবস্থায় আপনার মৃত্যু এসে যায়, তাহলে আল্লাহর সামনে কী অবস্থায় হাজির হবেন? ইমাম বাকির (আ.) শান্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, আমি তখন আল্লাহর সামনে সর্বোত্তম অবস্থাতেই উপস্থিত হব। কারণ আমি এ কাজ করছি আল্লাহর আদেশ মান্য করার জন্য এবং তাঁর সৃষ্টির সেবা করার উদ্দেশ্যে। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি—তিনি আমাকে এই তৌফিক দান করেছেন।এই কথা শুনে সুফি নিজেই উপলব্ধি করলেন, আমি ভেবেছিলাম তাঁকে উপদেশ দেব, অথচ তিনিই আমাকে পথ দেখালেন। লোকটি ধারণা করেছিল, ‘দুনিয়ার প্রতি আসক্ত না হওয়া’ মানে দুনিয়াকে সম্পূর্ণ বর্জন করা, কোনো শ্রম না করা। অথচ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তো নবুওয়তের আগে ও পরেও দীর্ঘ সময় বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিলেন।
আসলে ধর্মকে তার পূর্ণতা ও সামগ্রিকতায় বুঝতে হবে এবং জীবনের সব অঙ্গনে আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কখনো দায়িত্ব জিহাদে,
কখনো ব্যবসা-বাণিজ্যে, কখনো জ্ঞানার্জনে, আবার কখনো সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজেও। কখনো সম্পদ অর্জন অপরিহার্য হয়ে ওঠে—কারণ অর্থ ও সামর্থ্য ছাড়া কি জিহাদ সম্ভব?
অতএব প্রতিটি সময়ে আমাদের দেখতে হবে—ইসলামের জন্য কী সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও উপকারী, এবং সেটিকেই সচেতনভাবে বেছে নিতে হবে।
সূত্র:মরহুম আয়াতুল্লাহ মিসবাহ ইয়াজদি ,তারিখ: ০১/০২/২০১৬



