ইমাম জাওয়াদ(আ.)-এর সতর্কবার্তা—শুধু নামেই শিয়া দাবি নয়, কর্মে প্রমাণ চাই
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬
ইমাম জাওয়াদ(আ.)-এর সতর্কবার্তা—শুধু নামেই শিয়া দাবি নয়, কর্মে প্রমাণ চাই
মিডিয়া মিহির: ইমাম জাওয়াদ (আ.)-এর এক গভীর শিক্ষা—শুধু দান-খয়রাত নয়, বরং বিনয় ও সত্যিকারের আনুগত্যই কাজকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এক ব্যক্তি যখন নিজেকে “শিয়া খাঁটি” বলে দাবি করল, ইমাম তাঁকে সতর্ক করলেন যে এই অহংকার তার দানকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। কিন্তু যখন সে বিনম্রভাবে বলল, “আমি আপনার বন্ধু,” তখন ইমাম তার দানের পুণ্য ফিরিয়ে দিলেন।
ইমাম জাওয়াদ (আ.)-এর সতর্কবার্তা: শিয়া হওয়া শুধু দাবি নয়, বিনয় ও আনুগত্যের প্রমাণ চাই
একজন শিয়া, অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ইমাম জাওয়াদ(আ.)-এর কাছে এলেন। ইমাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন কেন তিনি এত খুশি। তিনি বললেন, “আজ আমি দশজন দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত ভাইকে অর্থ ও খাদ্য দিয়েছি, তাই আনন্দিত।
ইমাম জাওয়াদ(আ.)উত্তর দিলেন:তুমি আনন্দিত হওয়া উচিত, তবে শর্ত এই যে তোমার দান যেন বাতিল না হয়। লোকটি বলল: আমি তো আপনার খাঁটি শিয়া, তাহলে কীভাবে আমার দান বাতিল হবে? ইমাম বললেন: এই কথাটিই তোমার দানকে বাতিল করেছে। শিয়া খাঁটি হওয়ার দাবি করা সহজ নয়।
এরপর ইমাম কুরআনের আয়াত স্মরণ করালেন: হে ঈমানদারগণ, তোমাদের দানকে অহংকার ও আঘাত দিয়ে নষ্ট করো না।“ইমাম ব্যাখ্যা করলেন, শুধু দানগ্রহীতাদের প্রতি নয়, ফেরেশতাদের বা আমাদের প্রতি অহংকারও দানকে ব্যর্থ করে দেয়।
লোকটি স্তম্ভিত হয়ে স্বীকার করল যে সে ভুল করেছে। ইমাম জাওয়াদ(আ.)বললেন: তুমি জানো কি, আমাদের খাঁটি শিয়া কারা? তারা হলেন হাবিব নজ্জার, সালমান, আবু যার, মিকদাদ ও আম্মার প্রমুখ। তুমি নিজেকে তাদের সমকক্ষ বলেছ, আর এটাই আমাদের জন্য কষ্টদায়ক।
লোকটি তওবা করে বলল: তাহলে আমি কী বলব? ইমাম জাওয়াদ(আ.)বললেন:বল—আমি তোমাদের বন্ধু, তোমাদের বন্ধুদের ভালোবাসি এবং শত্রুদের শত্রু মনে করি।
যখন সে এভাবে বলল, ইমাম স্নেহভরে জানালেন:এখন তোমার দানের পুণ্য তোমার কাছে ফিরে এসেছে, আর তার বাতিল হওয়া দূর হয়েছে।
এই কাহিনি আমাদের শেখায় যে প্রকৃত শিয়া হওয়া কেবল নাম বা দাবি নয়, বরং বিনয়, আনুগত্য ও সত্যিকারের ভালোবাসার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।



