ধর্ম ও বিশ্বাসজীবনযাপনবিশেষ সংবাদবিশ্বসংবাদ বিশ্লেষণ

একজন আলেম একটি শহরকে বদলে দিতে পারেন: ইমাম খোমেনি (রহ.)

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬

একজন আলেম একটি শহরকে বদলে দিতে পারেন: ইমাম খোমেনি (রহ.)

মিডিয়া মিহির: ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর দৃষ্টিতে একজন আলেমের আত্মশুদ্ধি (তাহজিব) কিংবা বিচ্যুতি কেবল তার ব্যক্তিগত জীবনপথ নির্ধারণ করে না; বরং তা একটি সমাজের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে কিংবা ধ্বংসের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাম খোমেনি (রহ.) তাঁর গ্রন্থ ‘জিহাদে আকবর’-এ ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের (তালাবায়ে এলেম) উদ্দেশে যে নৈতিক উপদেশসমূহ প্রদান করেছেন, সেগুলো ধারাবাহিকভাবে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সমাজের ভাগ্যে আলেমদের চরিত্রের প্রভাব

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—জাহান্নামের অধিবাসীরা সেই আলেমের দুর্গন্ধে কষ্ট পাবে, যিনি তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী আমল করেননি। এর কারণ হলো, দুনিয়াতে ইসলাম ও ইসলামী সমাজের উপকার ও ক্ষতির ক্ষেত্রে একজন আলেম ও একজন অজ্ঞ ব্যক্তির মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। কোনো আলেম যদি পথভ্রষ্ট হন, তবে তিনি একটি গোটা জাতিকেও বিভ্রান্ত করে নৈতিক পচনের দিকে ঠেলে দিতে পারেন। আর যদি কোনো আলেম পরিশুদ্ধ ও নৈতিকতাসম্পন্ন হন এবং ইসলামী আদব-কায়দা মেনে চলেন, তবে তিনি সমাজকে পরিশুদ্ধ ও সৎপথে পরিচালিত করেন।

আমি গ্রীষ্মকালে যেসব শহরে যেতাম, সেখানে লক্ষ্য করতাম—সেখানকার মানুষ শরিয়তের আদব-কায়দা পালনে অত্যন্ত যত্নশীল। এর মূল কারণ ছিল, সেখানে একজন সৎ ও পরহেজগার আলেম বসবাস করতেন। কোনো সমাজ, শহর বা প্রদেশে যদি একজন সংযমী ও ন্যায়পরায়ণ আলেম অবস্থান করেন, তবে কেবল তাঁর উপস্থিতিই মানুষের আত্মশুদ্ধি ও হেদায়াতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়—এমনকি তিনি মুখে প্রচার বা উপদেশ না দিলেও।

আমরা এমন ব্যক্তিদের দেখেছি, যাঁদের উপস্থিতিই ছিল উপদেশ ও শিক্ষার উৎস; শুধু তাঁদের দিকে তাকালেই আত্মজাগরণ ঘটত। বর্তমানে তেহরান শহরেও—যা সম্পর্কে আমার কিছুটা ধারণা আছে—দেখা যায়, এর বিভিন্ন মহল্লার চরিত্র এক নয়। যে মহল্লায় একজন পবিত্র ও নৈতিকতাসম্পন্ন আলেম বসবাস করেন, সেখানে সাধারণত ঈমানদার ও সৎ মানুষ বসবাস করে।

অন্যদিকে, যে মহল্লায় কোনো বিচ্যুত ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি পাগড়ি পরে নিজেকে আলেম সাজিয়ে ইমামতি করে এবং ধর্মকে পেশা বানিয়ে ফেলে, সেখানে দেখা যায়—সে একদল মানুষকে প্রতারিত করে তাদের ভ্রষ্ট ও কলুষিত করেছে। এই নৈতিক কলুষতাই সেই দুর্গন্ধ, যার কারণে জাহান্নামের অধিবাসীরা কষ্ট পায়। এটি কোনো কল্পিত বিষয় নয়; বরং সেই পচন, যা একজন মন্দ আলেম, আমলবিহীন আলেম ও পথভ্রষ্ট আলেম এই দুনিয়াতেই সৃষ্টি করে, আর যার গন্ধ পরকালে জাহান্নামিদের নাকে পৌঁছায়।

পরকালে তার জন্য নতুন করে কিছু যোগ করা হয় না; সেখানে যা কিছু ঘটবে, তা এই দুনিয়াতেই প্রস্তুত করা হয়েছে। আমাদের আমলের বাইরে কিছুই আমাদের দেওয়া হবে না।

যখন কোনো আলেম দুর্নীতিপরায়ণ ও কলুষিত হয়ে ওঠেন, তখন তিনি একটি সমাজকে পচনের দিকে নিয়ে যান। পার্থক্য শুধু এটুকু—এই দুনিয়াতে মানুষ সেই দুর্গন্ধ অনুভব করে না, কিন্তু আখিরাতে তা স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা হবে। তবে সাধারণ মানুষ (আওয়াম) কখনোই ইসলামী সমাজে এমন গভীর ও ব্যাপক দুর্নীতি সৃষ্টি করতে পারে না। সাধারণ মানুষ কখনো নিজেকে ইমাম বা মাহদি বলে দাবি করে না, নবুয়ত বা খোদাত্বের দাবিও তোলে না। বরং এই সর্বনাশা বিভ্রান্তির উৎস হয় সেই দুর্নীতিগ্রস্ত আলেম, যে একটি গোটা সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। কারণ— اذا فسَد العالم، فسَد العالم “যখন আলেম নষ্ট হয়ে যায়, তখন পুরো জগতই নষ্ট হয়ে যায়।”

সূত্র: ইমাম খোমেনি (রহ.) রচিত জিহাদে আকবর

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button