মহাকাশে ইরানের নতুন অগ্রগতি: রাশিয়ার রকেটে দেশীয় তৈরী তিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

মহাকাশে ইরানের নতুন অগ্রগতি: রাশিয়ার রকেটে দেশীয় তৈরী তিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
মিডিয়া মিহির: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান রাশিয়ার সয়ুজ রকেট ব্যবহার করে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে।
আজ (রোববার) তেহরান সময় বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে সয়ুজ স্যাটেলাইটবাহী রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এতে একাধিক পেলোডের পাশাপাশি ইরানের জাফার–২, পায়া ও কাওসার স্যাটেলাইট অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানি কর্মকর্তারা জানান, মাল্টি-পেলোড মিশনের অংশ হিসেবে রাশিয়ার ভস্তোচনি কসমোড্রোম থেকে এই তিনটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ইরান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সাতবার রাশিয়ার রকেট ব্যবহার করেছে।
মিশনের আগে মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেন, এটি ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি বড় অগ্রগতি। তিনি জানান, স্যাটেলাইটগুলো সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মিত, যা সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক বেসরকারি কোম্পানিগুলোর যৌথ উদ্যোগের ফল।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নকশা ও নির্মাণের সব ধাপ ইরানেই সম্পন্ন হয়েছে; তবে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়াটি রাশিয়ার সহযোগিতায় করা হয়েছে। “এই স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে দুটি সরকারি এবং একটি বেসরকারি খাতের। আমাদের জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।”

স্যাটেলাইটের তথ্য:
-
জাফার–২: ইরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নির্মিত। প্রাকৃতিক সম্পদ পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত অবস্থা মূল্যায়ন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানচিত্র তৈরিতে ব্যবহার হবে।
-
কাওসার ১.৫: পূর্বের কাউসার ও হুদহুদ স্যাটেলাইটের উন্নত সংস্করণ। এতে ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) সক্ষমতা যুক্ত, যা স্মার্ট পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার জন্য তাৎক্ষণিক তথ্য আদান–প্রদান সম্ভব করবে।
-
পায়া (তোলু–৩): ইরানি মহাকাশ সংস্থার নির্মিত সবচেয়ে ভারী পৃথিবী পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট, ওজন প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম।
ইরান প্রথম ২০০৯ সালে ওমিদ (আশা) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশে প্রবেশ করে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরান ধারাবাহিকভাবে বেসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করছে।



