নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ প্রমাণ করে ইরানের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ— সামাজিক মাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ প্রমাণ করে ইরানের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ— সামাজিক মাধ্যমে ভূয়সী প্রশংসা
মিডিয়া মিহির: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও মহাকাশ প্রযুক্তিতে ইরানের ধারাবাহিক অগ্রগতি আবারও আলোচনায় এসেছে। রাশিয়ার সহায়তায় তিনটি স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেশটির এই সাফল্যকে ঘিরে ব্যাপক প্রশংসা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গত রোববার সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরী ইরানের তিনটি স্যাটেলাইট—‘জাফর-২’, ‘পায়া’ ও ‘কাওসার-১.৫’—রাশিয়ার ভোস্টোচনি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে সয়ুজ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়। এই উৎক্ষেপণকে ইরানের মহাকাশ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা তাদের মতামত প্রকাশ করেন। এক্স ব্যবহারকারী ট্যাবিটা শার্লি এই সাফল্যকে একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, “স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ একটি পরিষ্কার বার্তা দেয়। ইরান নিজেদের জ্ঞান ও সক্ষমতার ওপর ভর করেই এই শক্তি অর্জন করেছে।”
লু রেজ নামের অন্য এক ব্যবহারকারী এটিকে ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি লেখেন, “ইরান তিনটি নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে তাদের মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কর্মসূচিতে আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়েছে। এসব স্যাটেলাইট রিমোট সেন্সিং, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও যোগাযোগ সহায়ক কাজে ব্যবহৃত হবে।”
ইরানি ব্যবহারকারী মোহাম্মদ আকবারজাদে দেশের তরুণ বিজ্ঞানীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “কাওসার স্যাটেলাইট থেকে প্রথম সিগনাল পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল দারুণ আবেগঘন। এটি মূলত ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের একটি দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তাদের নিষ্ঠা ও আশাবাদ যেকোনো কঠিন কাজকে সম্ভব করে তোলে।”
এছাড়া শেখ তারাওয়ালি নামের এক নেটিজেন পশ্চিমা দেশ ও ইসরায়েলের বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, “পাশ্চাত্য ও ইসরায়েলের নানা চাপ ও প্রতিবন্ধকতার পরও ইরান তার উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ ধরে এগিয়ে চলেছে।”
এক্স ব্যবহারকারী ফ্যাবিও সিলভা নিষেধাজ্ঞার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে মন্তব্য করেন, “ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে, কিন্তু তাদের অগ্রগতি থামানো যাবে না। ইরানিরা একটি সৃজনশীল ও সক্ষম জাতি।”
ক্রিপ্টো ড্যাডি নামে আরেক ব্যবহারকারী লেখেন, “নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বারবার প্রমাণ করছে।”
ইরানের এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও দেশটির আত্মনির্ভরতা ও বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।



