হিব্রু গণমাধ্যম: সাইবার হামলায় ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে ইরান

হিব্রু গণমাধ্যম: সাইবার হামলায় ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে ইরান
মিডিয়া মিহির: একটি হিব্রু ভাষার বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক গণমাধ্যম স্বীকার করেছে যে, সাইবার হামলার মাধ্যমে ইসরায়েলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে ইরান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পরিচালিত সাইবার আক্রমণগুলোর ক্ষেত্রে ইরানি হ্যাকাররা শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
হিব্রু ভাষার প্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী PC বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে—ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাইবার যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরেই চলমান এবং কমপক্ষে তিন বছর আগে এ সংঘাতের সূচনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সাইবার যুদ্ধে নাশকতামূলক হামলা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপারেশন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গণমাধ্যমটি জানায়, তথাকথিত ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের সাইবার হামলায় ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে হামলাকারীরা খুব দ্রুত তাদের কৌশল ও কার্যপদ্ধতি পরিবর্তন করে নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়, যা ইসরায়েলের সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
প্রতিবেদনের আরেক অংশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসে স্বীকার করতেই হবে যে, চলতি বছরে সাইবার অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে ইরান। বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইসরায়েল নিজেকে সাইবার সক্ষমতার ক্ষেত্রে অগ্রণী ও উদ্ভাবনী শক্তি হিসেবে দাবি করে থাকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে বিশেষ করে দেশটির ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় আইনজীবীদের কার্যালয়, নির্মাণ কোম্পানি, মানবসম্পদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং লজিস্টিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলো।
এ ছাড়া কাস্টমস ক্লিয়ারিং কোম্পানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সেবা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদনের শেষাংশে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ও প্রভাবশালী সাইবার হামলায় জড়িত কয়েকটি হ্যাকার গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হিব্রু গণমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল মাডি ওয়াটার (MuddyWater), চার্মিং কিটেন (Charming Kitten), ডার্কবিট (DarkBit), ফিনিক্স সাইবার টর্নেডো (Phoenix Cyber Tornado) এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে হানজা (Hanza) নামের হ্যাকার গোষ্ঠীকে।



