কুরআন ও সুন্নাহতে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর ঘরের মর্যাদা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ৮ জানুয়ারি ২০২৬
কুরআন ও সুন্নাহতে হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর ঘরের মর্যাদা কীভাবে বর্ণিত হয়েছে?
মিডিয়া মিহির: হযরত ফাতিমা যাহরা(সা.)-এর ঘরের সম্মান সম্পর্কে বলা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা এই ঘরকে অত্যুচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছেন। কারণ যখন সুরা নুরের ৩৬ নম্বর আয়াত নাযিল হলো: «[আল্লাহর নুর] এমন ঘরসমূহে রয়েছে, যেগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধির অনুমতি আল্লাহ দিয়েছেন…»; তখন হযরত রাসুলুল্লাহ(সা.)বললেন: «হযরত আমিরুল মু’মিনিন (আ.)ও হযরত ফাতিমা(সা.)-এর ঘর সেইসব ঘরের মধ্যে সর্বোত্তম»।এছাড়া, নয় মাস ধরে তিনি তাঁর কন্যার ঘরের দরজায় এসে তাঁকে ও তাঁর সম্মানিত স্বামীকে সালাম জানাতেন এবং সুরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াত তাতহির তিলাওয়াত করতেন।
বিস্তারিত উত্তর
হাদিসবিদগণ উল্লেখ করেন যে, যখন পবিত্র আয়াত «فِى بُيُوتٍ أَذِنَ اللَّهُ أَنْ تُرْفَعَ وَيُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ»(১) হযরত নবী(সা.)-এর উপর নাযিল হলো, তখন তিনি মসজিদে এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন। সেই সময় একজন উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল!এই গুরুত্বপূর্ণ ঘরগুলো কোনগুলো? নবী(সা.)বললেন: নবীদের ঘরসমূহ! তখন আবু বকর উঠে দাঁড়ালেন, এবং হযরত আলী ও ফাতিমা(আ.)-এর ঘরের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: এই ঘরটি কি সেই ঘরগুলোর অন্তর্ভুক্ত? হজরত নবী(সা.)উত্তর দিলেন: হ্যাঁ, এটি তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম।(২) হযরত নবী(সা.)নয় মাস ধরে তাঁর কন্যার ঘরের দরজায় এসে তাঁকে ও তাঁর প্রিয় স্বামীকে সালাম জানাতেন(৩) এবং এই আয়াত তিলাওয়াত করতেন: «إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا»।(৪) হ্যাঁ, সেই ঘর যা আল্লাহর নুরের কেন্দ্রবিন্দু এবং যার মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, তা অত্যন্ত উচ্চ সম্মানের যোগ্য; এবং এটি স্পষ্ট যে, যে ঘরে আহলে বাইতের কিসা-পরিধানকারীগণ অবস্থান করেন এবং যার সম্পর্কে আল্লাহ মহিমা ও মহত্ত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন, তা সমস্ত মুসলিমের কাছে সম্মানিত হওয়া উচিত।(৫)
পাদটীকা
(১) সূরা নূর, আয়াত ৩৬ — “আল্লাহর নূর সেই সব ঘরে প্রকাশিত হয়, যেগুলোকে তিনি সম্মানিত ও মর্যাদাবান করার অনুমতি দিয়েছেন এবং যেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়।”
(২) রাসূলুল্লাহ(সা.)এই আয়াত— “সেসব ঘরে, যেগুলোকে আল্লাহ মর্যাদা দান ও তাঁর নাম স্মরণ করার অনুমতি দিয়েছেন”— তিলাওয়াত করলে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: “হে আল্লাহর রাসূল, এই ঘরগুলো কোনগুলো?” নবী(সা.)বললেন:এগুলো নবীদের ঘর।তখন আবু বকর দাঁড়িয়ে ইশারা করে বললেন:হে আল্লাহর রাসূল, আলী ও ফাতিমা (সা.আ.)-এর এই ঘরটিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? নবী(সা.)উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ, বরং এটি তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ঘরগুলোর একটি।” (সূত্র: আদ্-দুররুল মানসুর, জালালুদ্দিন সিউতি, খণ্ড ৫, পৃ. ৫০; রূহুল মাআনি, আলুসি, খণ্ড ৯, পৃ. ৩৬৭)
(৩) আদ্-দুররুল মানসুর, সিউতি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৯৯ — আয়াত “إِنَّمَا يُرِيدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ…” (আহলে বাইতের পবিত্রতা সম্পর্কিত আয়াত) এর ব্যাখ্যা।
(৪) সূরা আহযাব, আয়াত ৩৩ — আহলে বাইতের পবিত্রতা ও মর্যাদা সম্পর্কে প্রসিদ্ধ আয়াত।
(৫) সংগৃহীত: পায়াম-এ ইমাম আমীরুল মুমিনীন (আ.), লেখক: আয়াতুল্লাহ নাসের মাকারেম শিরাজি, খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৪১, দারুল কুতুবুল ইসলামিয়্যাহ, তেহরান, ১৩৮৬ শামসি।



