Uncategorizedজীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদবিশ্ব

রজবের শুরুতে শিষ্যদের প্রতি এক মহান আরেফের পত্রবার্তা

ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসােইন। প্রকাশ: ৭ জানুয়ারি ২০২৬

রজবের শুরুতে শিষ্যদের প্রতি এক মহান আরেফের পত্রবার্তা

মিডিয়া মিহির: মাহে রজবকে জাগরণের ঋতু ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ বলে বর্ণনা করে আরেফ-রব্বানী আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী কাজী তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে এক হৃদয়গ্রাহী চিঠিতে তওবা, আত্ম-অনুশাসন, ইশরাক ও তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তেগফার, কবর জিয়ারত, মু’মিনদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা এবং দুনিয়ার ভ্রমায় না ভোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৩১৭ সালের শনিবারে, পঞ্চম শাহরিয়ার (আজ থেকে ৮৭ বছর আগে) এবং রজব মাস শুরু হওয়ার একদিন আগে, সমকালীন যুগের মহান আরেফ ও আল্লামা তাবাতাবাঈর ওস্তাদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী কাজী তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক পত্র লেখেন। সে চিঠিতে তিনি রজব মাসের মাহাত্ম্য, মর্যাদা এবং আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাস্তবমুখী নির্দেশনার মাধ্যমে এই মূল্যবান সময়টিকে কাজে লাগাতে আহ্বান জানান।

মাহে রজবকে জাগরণের ঋতু ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ বলে বর্ণনা করে আরিফে-রব্বানী আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী কাজী তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে এক হৃদয়গ্রাহী চিঠিতে তওবা, আত্ম-অনুশাসন, ইশরাক ও তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তেগফার, কবর জিয়ারত, মু’মিনদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা এবং দুনিয়ার ভ্রমায় না ভোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হোজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩১৭ সালের শানবে, পঞ্চম শেহরিবার (আজ থেকে ৮৭ বছর আগে) এবং রজব মাস শুরু হওয়ার একদিন আগে, সমকালীন যুগের মহান আরিফ ও আল্লামা তাবাতাবাঈর ওস্তাদ আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী কাজী তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক পত্র লেখেন। সে চিঠিতে তিনি রজব মাসের মাহাত্ম্য, মর্যাদা এবং আধ্যাত্মিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাস্তবমুখী নির্দেশনার মাধ্যমে এই মূল্যবান সময়টিকে কাজে লাগাতে আহ্বান জানান।

চিঠির মূল অংশ

بسم الله الرحمن الرحیم

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিনের জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক স্পষ্ট বার্তাবাহক রাসুলের প্রতি, তাঁর বিশ্বস্ত উত্তরাধিকারীর প্রতি, তাঁদের পবিত্র বংশধর এবং সৎ উত্তরসূরিদের ওপর—আল্লাহ্‌র শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁদের সকলের ওপর বর্ষিত হোক।

সতর্কবার্তা: তোমরা এখন হারাম মাসে অবস্থান করছ

সতর্ক হও—পাথেয় সংগ্রহ করো, এই সুযোগকে হাতছাড়া কোরো না। এর রাতগুলোকে ইবাদতে জাগ্রত রাখো এবং দিনের বেলায় সিয়াম পালন করো; তোমার প্রতিপালকের প্রতি কৃতজ্ঞ হও—যাঁর দয়া ও অনুগ্রহ পূর্ণ ও সীমাহীন।

রাতে খুব অল্প ঘুমাও—বরং জেগে থেকো, নিশীথে দাঁড়িয়ে থাকো। প্রেমিকেরা কত রাত জেগে কাটায়—নিদ্রা তাদের গ্রাস করে না।

কোরআন—সত্যের কিতাব—সুন্দর ও বিষাদভরা সুরে তিলাওয়াত করো; তার আলো অন্ধকারকে চিরে দেয়। এর সদৃশ কোনো বাণী নেই; যে ভিন্ন কথা দাবি করে—সে ভুল করে।

নির্দেশনাসমূহ

১.তওবা করো বিশেষ করে রজব আসার আগে—শুক্রবার রাত বা রবিবার দিনে—তওবার নামাজ আদায় করো। তওবার পর বড় বা ছোট কোনো পাপের কাছে ঘেঁষবে না। প্রয়োজনে রজবের দ্বিতীয় দিন আবার তওবার নামাজ পড়বে।

২.আত্ম-হিসাব ও আত্ম-সতর্কতা নিজেকে নিরন্তর পর্যবেক্ষণ করো—ছোট-বড় সব বিষয়ে হিসাব নাও, প্রয়োজন হলে নিজের শাস্তিও নির্ধারণ করো। যারা জাগতে চায় এবং হৃদয়ে খশিয়ত জাগাতে চায়—এটা তাদের জন্য অপরিহার্য পন্থা।

৩.খুশু ও উপস্থিত হৃদয়ে নামাজ ফরজ নামাজগুলো যথাসম্ভব প্রথম সময়ে আদায় করো এবং নফল নামাজগুলোসহ মোট ৫১ রাকাত সম্পূর্ণ করো। যদি সব না পারো, অন্তত ৪৪ রাকাত আদায় করো; তাও সম্ভব না হলে “অওয়াবিনের নামাজ”-এ স্থির থেকো।

৪. তাহাজ্জুদের নামাজ—মুমিনের জীবনে এমন এক আহ্বান, যার থেকে রাতের নিস্তব্ধতা কখনোই তাকে অব্যাহতি দেয় না। বিস্ময়কর নয় কি—যে মানুষ পূর্ণতার স্বপ্ন বুকে লালন করে, অথচ নিশীথের দরজায় কড়া নাড়তে জানে না? ইতিহাসের দীর্ঘ পথরেখা সাক্ষ্য দেয়—রাতের অন্ধকার ভেদ করে যে জেগে উঠেছে, কেবল তারাই পৌঁছেছে কামের শিখরে, আত্মিক উৎকর্ষের সর্বোচ্চ স্তরে।

৫.কোরআন তিলাওয়াত রাতে কোরআন পড়ো—বিষণ্ন অথচ সুমধুর সুরে; এটাই মুমিনদের নেশা—আত্মার মদিরা।

৬.দোআয়েফরজ ও ইস্তেগফার কায়েমে-আলেহিস্‌সালামের ফরজের দোয়া—তাহাজ্জুদের কুনুতেও পড়ো, প্রতিদিনও পড়তে পারো। ইস্তেগফারে অবিচল থেকো—অপরাধ ও ত্রুটির ক্ষতিপূরণ এভাবেই হয়।

৭.নামাজের পর যিকির ফরজ নামাজের পর ফাতিমা যাহরার (সা.) তাসবিহ কখনো বাদ দিও না। এটি যিকিরের মধ্যে এক মহান যিকির—অন্তত প্রতিটি সমাবেশে একবার অবশ্যই পড়বে।

৮.কবর জিয়ারত মুমিনদের কবর নিয়মিত জিয়ারত করো; তবে রাত্রিবেলায় জিয়ারত পরিহার করো—দিনেই তা সম্পন্ন করো।

৯.মু’মিনদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা সৎকর্মপরায়ণ মু’মিন ভাইদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখো— এ সম্পর্ক সবচেয়ে বড় পুঁজি; কঠিন পথের সহযাত্রী তারাই।

১০.মসজিদ ও পবিত্র স্থান জিয়ারত সুযোগ পেলে পবিত্র মাজার ও সম্মানিত মসজিদে যাও— মুমিন মসজিদে যেমন, মাছ তেমনি জলে।

দুনিয়ার প্রতারণা সম্পর্কে সতর্কবাণী

নিজেকে প্রতারিত কোরো না! দুনিয়া আমাদের ব্যস্ত রেখেছে, আমাদের মোহাবিষ্ট করেছে এবং ভ্রান্ত পথে টেনে নিচ্ছে; তবু এ দুনিয়া আমাদের সত্যিকার আবাস নয়।

সৌভাগ্য সেই পুরুষদের—যাদের দেহ নাসুতের জগতে, কিন্তু হৃদয় আশ্রয় নিয়েছে মালাকুতের রাজ্যে। দেখতে তারা স্বল্পসংখ্যক—কিন্তু সত্যে তারা-ই সংখ্যাগরিষ্ঠ।

উৎস: সাফাহাতুন মিন তারিখিল আ’লাম ফিন্নাজাফিল আশরাফ, খণ্ড ১, পৃ. ১৮৫–১৮৮।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button