শিশুর একাকিত্বের কারণ নিয়ে শহীদ বেহেশতীর গভীর সতর্কবার্তা
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ৪ জানুয়ারি ২০২৬
শিশুর একাকিত্বের কারণ নিয়ে শহীদ বেহেশতীর গভীর সতর্কবার্তা
মিডিয়া মিহির: শহীদ বেহেশতী সতর্ক করে বলেছেন—শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ অপরিহার্য। সেই স্বাধীনতা না পেলে শিশুদের ভেতরে জমে ওঠে ক্ষোভ, ভয় ও প্রতিশোধের আগুন, যা ভবিষ্যতে তাদের জীবনকে বিপথে ঠেলে দিতে পারে।
স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ ছাড়া কোনো শিশুর সুস্থ চরিত্র গঠন সম্ভব নয়। অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র সংকুচিত হলে শিশুর মন দমে যায়, আর সেই দমবন্ধ পরিবেশই ভবিষ্যতে তাকে গভীর মানসিক জটিলতা ও প্রতিশোধপরায়ণতার দিকে ঠেলে দেয়।
শিশুদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিন। এ কেমন জীবন—যেখানে ঘরের ভেতর প্রতিটি মুহূর্তে বলা হয়, “নড়বে না! চেয়ার ভেঙে ফেলবে!? এমন নিষেধাজ্ঞার চাপে শিশুরা ধীরে ধীরে কুঁকড়ে যাওয়া, ভীত, সংকুচিত এক সত্তায় পরিণত হয়। তারা হয়ে ওঠে দমিয়ে রাখা আবেগের ভারে নত, আর সুযোগ পেলেই প্রতিকূল পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উদ্যত। কখনো সেই প্রতিশোধ প্রকাশ্য ও কঠোর হয়, যা আমাদের চমকে দেয়; আবার কখনো নীরব, শব্দহীন—কিন্তু একদিন এমনভাবে বিস্ফোরিত হয় যে তখন আর কোনো পথ খোলা থাকে না।
পরিবারে যদি কোনো শিশু সবসময় নিজেকে গুটিয়ে রাখে, একা থাকে, পারিবারিক আড্ডায় অংশ না নেয়—জানেন কেন? কারণ শৈশব থেকেই তাকে স্বাধীনভাবে বাঁচার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সূত্র: আয়াতুল্লাহ শহীদ বেহেশতী, নকশে আজাদি তারবিয়াতে কুদেকান, পৃষ্ঠা ২১–২২।



