সমাজকে জ্ঞান নয়, বরং নৈতিকতা টিকিয়ে রাখে: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
সমাজকে জ্ঞান নয়, বরং নৈতিকতা টিকিয়ে রাখে: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি
মিডিয়া মিহির: বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই মনে করি— সমাজের উন্নতি, উম্মতের পুনর্জাগরণ এবং ইসলামের বিজয় জ্ঞানের বিস্তারের মাধ্যমেই সম্ভব। নিঃসন্দেহে জ্ঞান অপরিহার্য; কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন জ্ঞান সমাজকে টিকিয়ে রাখে? এই প্রশ্নের গভীর ও যুগোপযোগী উত্তর দিয়েছেন ইরানের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মারজায়ে তাকলীদ আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি!
তিনি তাঁর দরসে খারেজে ফিকহ-এ “রাসায়নিক নৈতিকতা” নামে বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্পষ্টভাবে বলেন—সমাজের ভিত্তি জ্ঞানের উপর নয়, বরং নৈতিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানুষ, হযরত মুহাম্মদ (সা.), জ্ঞানের দিক থেকে অতুলনীয় ছিলেন; কিন্তু আল্লাহ তাআলা কুরআনে তাঁর প্রশংসা করেছেন জ্ঞানের কারণে নয়, বরং তাঁর চরিত্রের কারণে। আল্লাহ বলেন— “وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِيمٍ” — “নিশ্চয়ই আপনি (হে মুহাম্মদ ﷺ) মহান চরিত্রের অধিকারী।” [সূরা আল-ক্বালাম (৬৮), আয়াত- ৪]
এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, নবুওতের সাফল্যের মূল রহস্য ছিল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নৈতিকতা। মানুষ সবাই তাঁর জ্ঞানের গভীরতা বুঝতে পারেনি; কিন্তু তাঁর আচরণ, দয়া, সত্যনিষ্ঠা ও আমানতদারিতা মানুষের হৃদয় জয় করেছিল।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমুলি বলেন, জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তার প্রভাব সীমিত হয়ে যায়। একজন বিশিষ্ট আলেম বা গবেষক তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে হয়তো অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারেন; কিন্তু তাঁর উত্তম চরিত্র, বিনয় ও আখলাক একটি সম্পূর্ণ জাতিকে আলোকিত করতে পারে। সমাজ জ্ঞানে নয়, আখলাকে দাঁড়িয়ে থাকে।
দাওয়াহর ক্ষেত্রেও এই সত্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত আলেম তিনি নন, যিনি কেবল কথা বলেন; বরং প্রকৃত আলেম তিনি, যিনি নিজের চরিত্রের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন। এজন্যই আহলে বাইত (আ.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন— “كُونُوا دُعَاةً لِلنَّاسِ بِغَيْرِ أَلْسِنَتِكُمْ” —“তোমরা মানুষ তোমাদের জিহ্বা দিয়ে নয়, বরং তোমাদের আচরণ ও আমলের মাধ্যমে (দ্বীনের) আহ্বানকারী হও!”
আজ উম্মতের জন্য এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী দাওয়াহ। আমাদের নামাজ, সততা, ধৈর্য, পারিবারিক আচরণ, লেনদেনের স্বচ্ছতা—এসবই নীরব দাওয়াহ। কথা ছাড়াই মানুষকে সত্যের পথে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা এখানেই।
যদি আমরা এই শিক্ষার উপর আমল করি— নিজেদের চরিত্রকে কুরআনি ও নববী নৈতিকতায় গড়ে তুলি—তাহলে আমরা কেবল ব্যক্তি নই, বরং সমাজ, ব্যবস্থা এবং সমগ্র উম্মতের সংস্কার ও স্থায়িত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারব।
আজ দাওয়াহর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নতুন বক্তা নয়; প্রয়োজন উত্তম চরিত্রের জীবন্ত উদাহরণ।
[দারসে খারিজে ফিকাহ্— নিকাহ অধ্যায়, সেশন ২৯]



