দুনিয়াবি আনন্দ ও আখিরাতের চিরস্থায়ী আনন্দের পার্থক্য কী?
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

দুনিয়াবি আনন্দ ও আখিরাতের চিরস্থায়ী আনন্দের পার্থক্য কী?
মিডিয়া মিহির: জান্নাতের অধিকারীরা দুনিয়াতে হারাম ও গোনাহ-মিশ্রিত আনন্দ থেকে নিজেদের বিরত রেখেছেন। তাঁরা তাকওয়া ও সংযমের সঙ্গে জীবন যাপন করেছেন এবং ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসে হৃদয় আসক্ত করেননি। এরই প্রতিদান হিসেবে আখিরাতে তাঁদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী আনন্দ, স্থায়ী প্রশান্তি এবং আল্লাহ তাআলার পূর্ণ সন্তুষ্টি।
হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মোহাম্মদ হাদী ফাল্লাহ তাঁর এক বক্তৃতায় “মুমিনদের সততা—চিরন্তন আনন্দ ও প্রকৃত সাফল্যের উৎস” শীর্ষক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। সেই বক্তব্যের সারসংক্ষেপ পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“هذا یومُ یَنفَعُ الصّادقینَ صِدقُهُم”
অর্থাৎ, আজ সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীদের সত্যনিষ্ঠাই তাদের উপকারে আসবে।
এই ‘আজ’ বলতে কিয়ামতের দিনকে বোঝানো হয়েছে—যেদিন মুমিন বান্দাদের সততা ও সত্যনিষ্ঠার প্রকৃত ফল প্রকাশ পাবে। এই ফল হবে স্থায়ী, অবিনশ্বর ও চিরন্তন।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, তাঁদের জন্য রয়েছে একাধিক জান্নাত। কুরআনের ভাষায় বলা হয়েছে— “لهم جنّاتٌ”- “لهم جنّة” নয়। অর্থাৎ তাঁদের জন্য একটি জান্নাত নয়, বরং বহু জান্নাত প্রস্তুত রয়েছে।
এখানে একটি গভীর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, জান্নাতের স্তর ও মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন। হতে পারে—কর্মের জান্নাত, গুণের জান্নাত ও সত্তার জান্নাত—প্রতিটি স্তরেই সত্যবাদী বান্দাদের জন্য আলাদা আলাদা মর্যাদা নির্ধারিত রয়েছে।
কুরআনে আরও বলা হয়েছে—
“تجری من تحتها الأنهار”
অর্থাৎ, জান্নাতের প্রাসাদ ও বৃক্ষরাজির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে স্বচ্ছ ও স্নিগ্ধ নদীসমূহ।
এই জান্নাতগুলো হবে সতেজতা, সৌন্দর্য ও জীবনীশক্তিতে পরিপূর্ণ। সেখানে সত্যবাদীরা চিরকাল অবস্থান করবে—
“خالِدینَ فیها أبداً”,
অর্থাৎ অনন্তকাল, যার কোনো শেষ নেই।
এরপর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“رَضِیَ اللهُ عنهم و رَضُوا عنه”
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট, আর তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটি বান্দা ও প্রতিপালকের মধ্যকার পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও নৈকট্যের সর্বোচ্চ স্তরকে প্রকাশ করে।
সবশেষে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—
“ذلک الفوز العظیم”
অর্থাৎ, এটাই হলো মহাসাফল্য।
কেন এটিকে মহাসাফল্য বলা হয়েছে?
কারণ এই মুমিনরা দুনিয়াতে প্রতিটি আনন্দ ও ভোগের পেছনে ছুটে যাননি। যেসব আনন্দে গোনাহ, নাফরমানি কিংবা শরিয়তের বিরোধিতা রয়েছে, সেসব থেকে তাঁরা সচেতনভাবে দূরে থেকেছেন।
তাঁরা সতর্ক ছিলেন— কোনো মূল্যেই, কিংবা কোনো নামের আড়ালেও যেন হারাম আনন্দে জড়িয়ে না পড়েন। এই তাকওয়া ও আত্মসংযমই কিয়ামতের দিন তাঁদের এমন এক অবস্থানে পৌঁছে দেবে, যেখানে থাকবে না কোনো ভয়, থাকবে না কোনো দুঃখ।
আখিরাতে তাঁদের প্রতিদান হবে চিরস্থায়ী আনন্দ ও প্রশান্তি— এমন এক সুখ ও স্বস্তি, যার কোনো অবসান নেই এবং যেখানে দুঃখ-কষ্টের কোনো স্থান নেই।
এই চিরন্তন শান্তি ও আনন্দই জান্নাতে তাঁদের উচ্চ মর্যাদার সুস্পষ্ট প্রমাণ—এক এমন আবাস, যা আলো, প্রশান্তি, আনন্দ ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ।



