আমিরুল মুমিনীন (আ.)-এর বাণীতে একটি দেশের মর্যাদা ও জয়লাভের অন্তর্নিহিত রহস্য
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: যেন একটি প্রাচীন বৃক্ষের ছায়ায় অবস্থিত, যার শিকড় গভীরে প্রোথিত এবং শাখাপ্রশাখা আকাশ ছোঁয়া—তেমনই ইমাম আলী (আ.)-এর নাহজুল বালাগাহ-এর পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে এক অমোঘ সতর্কতা। তিনি বলেছেন: যে সমাজ তার পবিত্র দায়িত্বকে ভুলে যায়—ভালোকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মন্দকে প্রতিরোধ করার সেই অমর দায়—সেই সমাজে অধমেরা শাসকের আসনে বসে, এবং মানুষের প্রার্থনা দরজায় দরজায় ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে, ফলহীন ও নিরাশ। এই বাণী কেবল ধর্মীয় উপদেশ নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক নিয়ম—যার উপেক্ষা মানে সমাজকে নিজের হাতে ক্ষয়ের গহ্বরে ঠেলে দেওয়া, যেন একটি উজ্জ্বল নদীকে বিষাক্ত করে তোলা।
একটি যৌথ নিরাপত্তা-কবচ
সৎকর্মের আদেশ এবং অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার এই দায়িত্ব কোনো একক উপদেশ নয়; এটি সমাজের একটি যৌথ কবচ, যেন একটি অদৃশ্য প্রহরী যা সকলকে রক্ষা করে। যতক্ষণ এই কবচ সজীব ও সক্রিয়, ততক্ষণ সমাজ নৈতিক ও সামাজিক রোগের বিরুদ্ধে অটুট প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যেন একটি সবুজ বন্যা যা ঝড়কে থামিয়ে দেয়। কিন্তু যখন এটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তখন দুর্নীতির প্রচণ্ড ঝড় সবকিছুকে—ভালো-মন্দ নির্বিশেষে—দগ্ধ করে ছাই করে দেয়, যেন একটি অন্ধকার আগুন যা সব আলো নিভিয়ে দেয়।
এই ব্যবস্থাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজে ধর্মীয় নেতৃত্ব এবং ইমামতের ভূমিকা অতুলনীয়, যেন একটি আলোকস্তম্ভ যা অন্ধকারে পথ দেখায়। তাই উঠে আসে একটি মৌলিক প্রশ্ন: এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বকে উপেক্ষা করার পরিণতি কী? এই প্রশ্নের গভীর অনুসন্ধানে আমরা নাহজুল বালাগা-বিষয়ক গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম আলী আকবর ইয়াযদিয়ানের সাথে কথোপকথন করেছি। তাঁর বক্তব্যের সারাংশ এখানে সাহিত্যিক ছোঁয়ায় তুলে ধরা হলো, যেন একটি মুক্তোর মালা যা আলোয় ঝলমল করে।
গবেষকের বক্তব্য: নাহজুল বালাগা-এর আলোকে
নাহজুল বালাগা-এর পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ইমাম আলী (আ.) সৎকর্মে উৎসাহ দেওয়া এবং অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখার বিষয়ে অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেছেন:
«بِها تُقامُ الفَرائضُ» অর্থাৎ—এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই অন্যান্য সকল ফরজ এবং ধর্মীয় কর্তব্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যেন একটি বসন্তকাল যা সকল ফুলকে ফুটিয়ে তোলে। এ থেকে বোঝা যায়, এই দায়িত্বই যেন সমস্ত ইবাদতের প্রাণস্রোত—যার সজীবতায় অন্য সকল নির্দেশনা প্রাণ পায়, যেন একটি নদী যা সকল জলধারাকে পুষ্ট করে।
এই দায়িত্ব কোনো সীমিত ক্ষেত্রে আবদ্ধ নয়; এটি কেবল পোশাক বা ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে সীমিত নয়—এটি জীবনের প্রতিটি অঙ্গে প্রসারিত: ব্যক্তিগত, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক—যেন একটি অসীম আকাশ যা সকলকে আচ্ছাদিত করে। যখন এই দায়িত্ব সমাজব্যাপী সক্রিয় থাকে, তখন আল্লাহর অন্যান্য বিধানও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেন একটি দুর্গ যা অটল।
নাহজুল বালাগা-এর ৩১ নম্বর হিকমাহ-এ ইমাম আলী (আ.) ঈমানের স্তম্ভসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: সত্যিকারের মুমিন ধৈর্য, দৃঢ় বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণতা এবং সংগ্রামী জীবন ধারণ করে। তারপর জিহাদের ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেন যে প্রকৃত মুজাহিদ তারা যারা— ১. সৎকর্মের আদেশ দেয়, যেন একটি আলো যা অন্ধকার ছড়িয়ে দেয়। ২. অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখে, যেন একটি প্রহরী যা বিপদ ঠেকায়। ৩. পাপাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, যেন একটি তলোয়ার যা অন্যায় কাটে। ৪. সর্বদা সত্য কথা বলে, যেন একটি নির্মল ঝরনা যা সত্যের জল বহন করে।
অতএব, অমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ঈমানের মৌলিক স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত, যেন একটি মহলের ভিত্তি যা সকলকে ধরে রাখে।
হিকমাহ ৩৭৪-এ ইমাম আলী (আ.) মানুষকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন—
১.যারা হৃদয়ে, ভাষায় এবং কর্মে—তিন স্তরেই মন্দের বিরোধিতা করে: এরা সর্বোত্তম, যেন আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্র।
২.যারা বোঝে এবং বলে, কিন্তু কর্মে নামে না: যেন একটি ছায়া যা আলোর কাছাকাছি কিন্তু পূর্ণ নয়।
৩.যারা মনে জানে, কিন্তু না বলে, না করে: যেন একটি লুকানো রত্ন যা উন্মোচিত হয়নি।
৪.আর যারা না চেনে, না বলে, না বাধা দেয়: এরা জীবিত মৃতের মতো—শুধু শ্বাস নেয়, কিন্তু সমাজের কাছে কোনো মূল্য রাখে না, যেন একটি শুকনো পাতা যা বাতাসে উড়ে যায়।
ইমাম আলী (আ.) জুলুমশাসকের বিরুদ্ধে সত্য বলাকেও প্রকৃত ঈমানের দাবি হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যেন একটি সাহসী ঝড় যা অন্যায়কে উড়িয়ে দেয়। তাই ইসলামী শাসক বা দায়িত্বশীলের ভুলের ক্ষেত্রেও সৎ নির্দেশ এবং অসৎকর্ম নিবারণের কর্তব্য আরও গুরুতর হয়ে ওঠে, যেন একটি পাহাড় যা অটল দাঁড়িয়ে থাকে।
কিন্তু যদি এই দায়িত্ব বিস্মৃত হয়? যদি সমাজ থেকে দায়িত্ববোধ এবং সংগ্রামের চেতনা মুছে যায়, যেন একটি আলো যা নিভে যায়? এই ভয়াবহ পরিণতির কথা তিনি নাহজুল বালাগা-এর ৪৭ নম্বর চিঠিতে—যা তাঁর রাজনৈতিক-আধ্যাত্মিক ওসিয়াত হিসেবে পরিচিত—সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। সেখানে তিনি সতর্ক করেন: যে সমাজ এই দায়িত্ব ত্যাগ করে এবং ইমাম ও আল্লাহপ্রদত্ত নেতৃত্বের আনুগত্য পরিত্যাগ করে, তাদের উপর এমন দুর্ভাগ্য নেমে আসে যা সহজে পূরণীয় নয়, যেন একটি অন্ধকার যা সকলকে গ্রাস করে।
তিনি আবার জোর দিয়ে বলেন: “অমর বিল মারুফ এবং নাহি আনিল মুনকার ত্যাগ করো না; অন্যথায় অধমেরা তোমাদের উপর শাসন করবে এবং তোমাদের দোয়াগুলো কবুল হবে না।
ইমাম আলী (আ.)-এর এই সতর্কবাণী সময়ের সীমা অতিক্রম করে আজও প্রতিধ্বনিত হয়, যেন একটি চিরন্তন কবিতা। একটি জাতির সম্মান এবং বিজয়ের রহস্য নিহিত দায়িত্ববোধে, ন্যায়ভিত্তিক প্রতিরোধে এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহসে—যেন একটি উজ্জ্বল সূর্য যা সকলকে আলোকিত করে।
যেন একটি ঝড়ো রাত্রির অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা বিপদের মতো, ইমাম আলী (আ.) নাহজুল বালাগা-এ দুটি ভয়ংকর পরিণতির কথা উচ্চারণ করেছেন—যা সমাজের হৃদয়কে বিদ্ধ করে, যেন তীক্ষ্ণ তীরের আঘাত।
১. فَیُوَلَّی عَلَیْکُمْ شِرَارُکُمْ অর্থাৎ—তোমাদেরই সবচেয়ে অধম মানুষগুলো তোমাদের উপর শাসক হয়ে উঠবে, যেন বিষাক্ত সাপেরা গুহা থেকে বেরিয়ে রাজসিংহাসনে বসে।
২. ثُمَّ تَدْعُونَ فَلَا یُسْتَجَابُ لَکُمْ অর্থাৎ—তারপর তোমরা যতই প্রার্থনা কর না কেন, তার কোনো জবাব মিলবে না, যেন আকাশের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়, এবং দোয়ার ডানা ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই “দোয়া কবুল না হওয়া”-র রহস্যময় ব্যাখ্যায় দুটি গভীর অর্থ লুকিয়ে আছে, যেন একটি গুপ্তধন যা আলোয় উন্মোচিত হয়:
প্রথম ব্যাখ্যা: তোমাদের দোয়া অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কার্যকর হবে না, যেন একটি নিষ্ফল বীজ যা মাটিতে পড়েও অঙ্কুরিত হয় না।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা: আরও বিস্তৃত অর্থে—যখন একটি জাতি সমষ্টিগতভাবে এই ফরজ দায়িত্ব পরিত্যাগ করে এবং ইমাম ও আল্লাহর প্রদত্ত নেতৃত্বের আনুগত্য ছাড়ে, তখন তাদের ওপর থেকে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও দোয়ার কবুলিয়্যাত সরে যায়, যেন একটি উজ্জ্বল সূর্য মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায়।
দুই ভয়াবহ পরিণতির গভীর ব্যাখ্যা
১) সমষ্টিগত শাস্তি এবং দোয়ার বিফলতা যখন কোনো জাতি সৎকাজে আহ্বান ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব উপেক্ষা করে, তখন তা এমন এক বনের মতো হয়ে যায় যেখানে আগুন ধরে গেছে—সবুজ-শুকনো, ভালো-খারাপ সবকিছু একসঙ্গে দগ্ধ হয়ে ছাই হয়ে যায়, যেন একটি প্রচণ্ড দাবানল যা কোনো পার্থক্য করে না।
যখন ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং সাধারণ জনগণ দায়িত্বের সময়ে দায়িত্ব পালন করে না, ইমামের নির্দেশ ও শরিয়তের দাবি অমান্য করে, তখন সমাজ ধীরে ধীরে পচনে ডুবে যায়, যেন একটি নদী যা বিষাক্ত হয়ে উঠে, তার জল আর পানযোগ্য থাকে না। এ অবস্থায় দোয়া আর ফলপ্রসূ হয় না, কারণ এ দুর্দশা বাহ্যিক নয়—সমষ্টিগত কর্মফলের আগুন, যা ভিতর থেকে সবকিছু গ্রাস করে।
২) অধমদের শাসন এবং সংস্কারের পথরুদ্ধতা যখন সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকেরা ক্ষমতায় বসে, তখন তারা আর নেকনিয়ত উপদেশ শুনতে চায় না—যেন একটি কান্ডারী যার কান বধির হয়ে গেছে, এবং হৃদয় পাথরের মতো কঠিন। তারা কেবল ক্ষমতায় ওঠার জন্য ছুটেছে; ক্ষমতা হাতে এলে সত্য ও ন্যায়ের কথা তাদের কানে পৌঁছায় না, যেন একটি দুর্গের দরজা যা চিরকাল বন্ধ।
এরপর যা ঘটে—
১- ন্যায়বিচারের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, যেন একটি আলোকিত পথ যা অন্ধকারে ঢেকে যায়।
২- সংস্কার ও প্রতিবাদের স্বাভাবিক পথগুলো রুদ্ধ হয়, যেন একটি নদীর প্রবাহ যা বাঁধ দিয়ে আটকে দেওয়া হয়।
৩- সৎ মানুষেরা একে একে প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হয়, যেন ফুলের বাগান থেকে সুন্দর ফুলগুলো উপড়ে ফেলা হয়।
ইমাম আলী (আ.)-এর চূড়ান্ত সতর্কবার্তা
যখন একটি সমাজে ভালো কাজের নির্দেশ ও মন্দ কাজের প্রতিবাদ দুর্বল হয়ে যায়, মানুষ একে অপরের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে—“আমি বাঁচি, বাকিরা যাক যেখানে”—তখন সমাজের ভাষা হয়ে ওঠে নিস্তেজ ও পরাজিত, যেন একটি গান যা তার সুর হারিয়ে ফেলেছে।
এমন অবস্থায় যেটা ঘটে, তা-ই ইমাম আলী (আ.) ঘোষণা করেছেন—
১. অধম লোকেরা শাসক হয়, যেন ছায়ার রাজা যারা আলোকে ভয় পায়।
২. দোয়াগুলো আর আকাশে ডানা মেলে না, যেন পাখিরা যাদের ডানা ছেঁড়া।
এভাবে সমাজ ধীরে ধীরে আল্লাহর রহমত ও বিজয় থেকে দূরে সরে যায়, যেন একটি জাহাজ যা ঝড়ে ভেসে যায় দূর সমুদ্রে।
দুটি ধ্বংসাত্মক ফলের সারসংক্ষেপ
১) সমষ্টিগত শাস্তি নবী শুয়াইব (আ.)-এর কওমের কাহিনিতে—যেমন কুরআনে এসেছে—শুধু পাপীদেরই নয়, বরং সেইসব নিস্ক্রিয় “ভালোমানুষদের”ও শাস্তি দেওয়া হয় যারা মন্দ কাজ দেখে চুপ থেকেছিল, যেন একটি ছায়া যা অপরাধের সাথে মিশে গেছে। তারা হয়তো নিজেরা বড় গুনাহ করেনি, কিন্তু নীরবতার মাধ্যমে অপরাধের অংশীদার হয়েছিল—তাই শাস্তি এলো সবার উপর, যেন একটি ঝড় যা সকলকে গ্রাস করে।
২) পতনের যুগ এবং প্রত্যাবর্তনের কঠিন পথ নাহজুল বালাগাহ-এর ১৯৩ নম্বর খুতবায় ইমাম আলী (আ.) বলেন—যখন সমাজ পুরোপুরি পথ হারায়, তখন ফেরার রাস্তা সহজ থাকে না; তখন প্রয়োজন হয় আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এবং গভীর আত্মপরিবর্তনের, যেন একটি হারানো যাত্রী যাকে আলোর দিশা খুঁজে পেতে হয়।
ইমাম আলীর অভিশাপ ও তার পরিণতি
আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পর এক স্বপ্নে নবী (সা.)-কে দেখে ইমাম আলী (আ.) উম্মতের অভিযোগ করেন। নবী (সা.) বললেন: তুমি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া কর। তিনি বললেন— “হে আল্লাহ, আমাকে এ জাতির মধ্য থেকে উঠিয়ে নাও এবং আমার বদলে তাদের জন্য এমন একজনকে বসাও, যে আমার চেয়েও খারাপ। আর আমার জন্য এমন জাতি দাও, যারা এদের চেয়ে ভালো।
ইতিহাসই সাক্ষ্য—ন্যায়বিচারের প্রতীক আলী (আ.) তাদের মধ্য থেকে উঠিয়ে নেওয়া হলো, আর তারা পড়ে রইল বনী উমাইয়া, বনী মারওয়ান ও বনী আব্বাসের মতো অত্যাচারী শাসকদের হাতে, যেন একটি বাগান যা কাঁটায় ভরে যায়। এ ছিল নিজের হাতে ডেকে আনা পরিণতি—বিশ্বাসঘাতকতা, নীরবতা ও দায়িত্বহীনতার মাশুল, যেন একটি বিষ যা ধীরে ধীরে সবকিছু নষ্ট করে।
এই অন্ধকার যুগ কতদিন স্থায়ী? জাগরণের আলো
যখন মানুষ সামান্যই হোক, তবে জেগে ওঠে—তাওবা করে, ফিরে আসে দায়িত্বের পথে—তখন আল্লাহর করুণা আবার ফিরে আসে, যেন একটি বসন্ত যা শীতের পর ফুল ফোটায়। ইসলামের ইতিহাসের প্রতিটি ইতিবাচক জাগরণ শুরু হয়েছে—
১.দায়িত্ববোধ থেকে, যেন একটি বীজ যা অঙ্কুরিত হয়।
২.অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো থেকে, যেন একটি তলোয়ার যা অন্ধকার কাটে।
৩.আল্লাহপ্রদত্ত নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য থেকে, যেন একটি পথ যা আলোকিত।
কবে আল্লাহ পরিস্থিতি বদলে দেন? ঐক্যের রহস্য
খুতবা ১৯২-এর ১৩ নম্বর অংশে ইমাম আলী (আ.) বলেন—আল্লাহ তখনই কোনো জাতিকে সম্মান দেন যখন তাদের মধ্যে পূর্ণ ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়:
১.লক্ষ্য এক, যেন একটি তারা যা সকলকে দিশা দেয়।
২.হাতগুলো সহায়তার জন্য পরস্পর প্রসারিত, যেন একটি শিকল যা অটুট।
৩.দৃষ্টি একদিকে—হকের পথে, যেন একটি নদী যা একই দিকে প্রবাহিত।
৪.শক্তি এক মোর্চায়—অসত্যের বিরুদ্ধে, যেন একটি ঢাল যা সকলকে রক্ষা করে।
অর্থাৎ—যখন জাতি একসঙ্গে দাঁড়ায়, অজ্ঞতা ও উদাসীনতা ঝেড়ে ফেলে, তখনই ফিরে আসে আল্লাহর সাহায্য ও সম্মান, যেন একটি ভোর যা রাত্রির পর আসে। কিন্তু যখন তারা আবার ভুলে যায়, বিচ্ছিন্ন হয়, নিজের খোলসে গুটিয়ে যায়—তখনই নেমে আসে পুনরায় সেই অপমান ও পতনের দিনগুলো, যেন একটি চক্র যা ঘুরে ফিরে আসে।
অতএব—সম্মান ও পতন দুই-ই মানুষের সমষ্টিগত পছন্দ ও দায়িত্ববোধের উপর নির্ভরশীল, যেন একটি আয়না যা নিজের মুখ দেখায়।



