জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশ্ব

রাগান্বিত অবস্থায় সন্তান প্রতিপালন: সত্যিকারের সফলতা সম্ভব নয় 

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

রাগান্বিত অবস্থায় সন্তান প্রতিপালন: সত্যিকারের সফলতা সম্ভব নয়

মিডিয়া মিহির: সন্তান প্রতিপালন বা শিক্ষাদানে রাগ বা ক্রোধের অবস্থায় থাকা কখনোই ফলপ্রসূ নয়। কারণ যে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সে সহজেই সীমা লঙ্ঘন করতে পারে এবং শালীনতার পর্দা ভেঙে দিতে পারে। ইসলামী শিক্ষায় হায়া (লজ্জা ও ভীতি) হলো শিক্ষার মূল ভিত্তি। ক্রোধ এই হায়াকে ধ্বংস করে দেয়। যখন হায়া নষ্ট হয়, তখন ফলাফল হয় শুধুই প্রতিরোধ, বিদ্রোহ ও উল্টো প্রতিক্রিয়া—কোনো ইতিবাচক ফল নয়।


সন্তান প্রতিপালনের মূল শর্ত হলো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। আত্মসংযমহীনতা বা আবেগপ্রবণতা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসাত্মক ফলই বয়ে আনে।

রাগান্বিত অবস্থায় শিক্ষাদান বা প্রতিপালন প্রায়শই কাঙ্ক্ষিত ফল দেয় না; বরং এর ফল বিপরীত হতে পারে। সত্যিই, ক্রোধের সঙ্গে দেওয়া তারবিয়াত (সন্তান প্রতিপালন) আদৌ সফল নয়। কারণ রাগান্বিত অবস্থায় মানুষ এখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখেনি। ফলে এমন আচরণ ঘটতে পারে যা শালীনতা এবং মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অন্যভাবে বললে— যখন আমরা রাগান্বিত অবস্থায় কাউকে শিক্ষাদান বা প্রতিপালন করার চেষ্টা করি, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। এটাই সেই মুহূর্ত, যখন হায়ার (লজ্জা ও শালীনতার) পর্দা ছিঁড়ে যায়। যেহেতু হায়া হলো প্রতিপালনের মূল ভিত্তি, তাই এই ভিত্তি ধ্বংস হলে পুরো শিক্ষাপ্রক্রিয়ার ফল উল্টো হয়ে যায়।

সন্তান প্রতিপালনে বা শিক্ষাদানে ক্রোধ কখনোই সহায়ক নয়। বরং এটি উল্টো প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একজন অভিভাবক বা শিক্ষককে শান্ত মন, সংযম এবং সহমর্মিতা বজায় রেখে শিক্ষাদান করতে হবে। প্রকৃত তারবিয়াত (সন্তান প্রতিপালন) হলো সেই যেখানে রাগ নয়, সংযম, সহমর্মিতা এবং হায়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রাধান্য পায়।

তথ্যসূত্র: হাজ আকা মুজতবা তেহরানি (রহ.), তারবিয়াত (সন্তান প্রতিপালন), পৃষ্ঠা ১১৬

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button