অস্ত্র সমর্পণ নয়, বরং প্রতিরোধ জোরদারের অঙ্গীকার হামাসের
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
অস্ত্র সমর্পণ নয়, বরং প্রতিরোধ জোরদারের অঙ্গীকার হামাসের
মিডিয়া মিহির: হামাস প্রতিরোধ আন্দোলনকে নিরস্ত্র করার যেকোনো প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে আরও শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার ইয়েমেনের আল-মাসিরাহ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওসামা হামদান বলেন, হামাস কখনোই তার অস্ত্র বিদেশি শক্তির কাছে হস্তান্তর করবে না। তিনি বলেন, “প্রতিরোধ বিদেশি বাহিনীর আগমন প্রত্যাখ্যান করে—যারা আমাদের নিরস্ত্র করতে এবং সেই অস্ত্র কেড়ে নিতে চায়, যা দখলদার শক্তি আমাদের কাছ থেকে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। অস্ত্র সমর্পণের ধারণা প্রতিরোধ কখনোই গ্রহণ করে না।”
হামদান ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়েও কথা বলেন, যা ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির পরবর্তী ধাপে আরও স্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা প্রয়োজন। “গাজা চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চয়তাগুলো আরও পরিষ্কার হতে হবে এবং অঙ্গীকারগুলো আরও বিস্তারিত হওয়া জরুরি,” তিনি বলেন। তিনি আরও বলেন, “জায়নিস্ট শত্রু চুক্তি মানে না; এমনকি যে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো সে স্বাক্ষর করে, সেগুলোকেও প্রকাশ্যভাবে লঙ্ঘন করে।”
হামদান সতর্ক করে বলেন, গাজা অবরোধ অব্যাহত থাকলে তা আবারও সামরিক আগ্রাসনের ইঙ্গিত বহন করে। সীমান্ত পারাপারগুলো খুলে না দেওয়া ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা— শত্রু গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে পুনরায় আগ্রাসনে ফিরতে চায়।
তিনি বলেন, অবরোধকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকে দুর্বল করা সম্ভব নয়। মৌলিক মানবিক চাহিদার ওপর অবরোধ আরোপ করলে তা “জায়নিস্ট সত্তার বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ ও শত্রুতা আরও বাড়িয়ে তোলে।”
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামদান বলেন, এসব নীতি পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আমেরিকানরা এই অঞ্চলে আধিপত্য চাপিয়ে দিতে চায়, যার মূল ভিত্তি হিসেবে রয়েছে জায়নিস্ট সত্তা। তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করা হলে ইসরায়েল পুরো অঞ্চলের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা সত্ত্বেও হামদান ফিলিস্তিনি জনগণের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “প্রতিরোধ অব্যাহত রাখার সক্ষমতা রাখে এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—এই সংঘাতের চূড়ান্ত পরিণতি হবে এই সত্তার পতন।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির প্রথম ধাপে ইসরায়েলকে গাজায় সব সীমান্ত পারাপার খুলে দিতে, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং হামাসের হাতে আটক সব বন্দির মুক্তির বিনিময়ে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার কথা ছিল।
হামাস চুক্তির শর্ত মেনে চললেও ইসরায়েল গাজায় হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং অধিকাংশ সীমান্ত বন্ধ রেখেছে, যার ফলে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস সোমবার জানায়, ইসরায়েল ইতোমধ্যে অন্তত ৮৭৫ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে—
-
বেসামরিকদের ওপর ২৬৫টি গুলিবর্ষণ
-
আবাসিক এলাকায় ৪৯টি সামরিক অনুপ্রবেশ
-
৪২১টি গোলাবর্ষণ
-
১৫০টি বসতবাড়ি ধ্বংস
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৪১১ জন নিহত এবং ১,১১২ জন আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের শুরু করা গণহত্যামূলক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত গাজায় মোট ৭০,৯৩৭ জন নিহত এবং ১,৭১,১৯২ জন আহত হয়েছেন।



