ধর্ম ও বিশ্বাসজীবনযাপন

শিশুর ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিপালন

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫

মিডিয়া মিহির: ইসলামী চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ উস্তাদ সাফায়ী (রহ.)–এর মতে, শিশুর তারবিয়াত (লালন-পালন, চরিত্র গঠন ও শিক্ষা) হওয়া উচিত তার ব্যক্তিত্ব বিকাশ, স্বাধীনচেতা মনোভাব এবং চিন্তা ও বিশ্লেষণক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর ভিত্তি করে; কেবল প্রচলিত রীতি, প্রথা বা ঐতিহ্য জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নয়।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো শিশুকে নির্দিষ্ট কোনো বিশ্বাস বা আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ করতে চান, তাঁর উচিত নয় শিশুর হয়ে নিজে চিন্তা করা, নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো শিশুর ওপর চাপিয়ে দেওয়া। একইভাবে পুরস্কার বা শাস্তির মাধ্যমে কেবল বাহ্যিক আনুগত্য সৃষ্টি করাও সঠিক তারবিয়াত পদ্ধতি নয়।

শিশুকে কেবল প্রথানির্ভর বা সনাতনী মানসিকতায় গড়ে তোলা উচিত নয়। কারণ, এ ধরনের প্রথা ও রীতি শিশুর কৈশোর বা যৌবনে পৌঁছানোর পর প্রায়ই নতুন চিন্তাধারা ও বিপরীত সংস্কৃতির মুখে পড়ে দুর্বল হয়ে যায় এবং একসময় ভেঙে পড়ে। বরং শিশুকে “ব্যক্তিত্ব গঠন”, “স্বাধীনচেতা মনোভাব” এবং “চিন্তা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা” অর্জনে সহায়তা করার মাধ্যমে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দৃঢ়, সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠে।

যদি শিশুর ব্যক্তিত্ব সুদৃঢ় হয়, তবে সে অন্ধ অনুকরণে অভ্যস্ত হবে না এবং যে কোনো মতবাদ বা চিন্তাধারার দ্বারা সহজে প্রভাবিত হবে না। যদি তার মধ্যে স্বাধীনচেতা মানসিকতা গড়ে ওঠে, তবে সে নিজের কোনো ভুল উপলব্ধি করতে পারলে একগুঁয়েমিতে লিপ্ত হবে না। আর যদি তার চিন্তা ও বিশ্লেষণের ক্ষমতা থাকে, তবে সে মানসিক স্থবিরতা ভেঙে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে এবং আগ্রাসী ও বিভ্রান্তিকর সংস্কৃতি বা চিন্তাধারাকে সচেতনভাবে প্রত্যাখ্যান করতে সক্ষম হবে।

অতএব, প্রকৃত তারবিয়াত হলো শিশুর ভেতরে এমন এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা, যা তাকে আজীবন সঠিক পথ বেছে নিতে, সত্যকে অনুধাবন করতে এবং যুক্তিবোধের আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে তোলে।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button