কুরআনজীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদ

নামাজ না পড়ার কয়েকটি বেদনাদায়ক পরিণতি

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

মিডিয়া মিহির: ইসলামে নামাজ হলো ইমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এটি বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যকার সরাসরি সংযোগ। কিন্তু যখন এই মহান ইবাদতে অবহেলা, শৈথিল্য কিংবা গুরুত্বহীনতা দেখা দেয়, তখন তার প্রভাব শুধু আখিরাতেই নয়, দুনিয়ার জীবনেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। এ প্রসঙ্গে হযরত ফাতিমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) থেকে বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণী আমাদের জন্য গভীর শিক্ষা বহন করে।

হযরত ফাতিমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) বলেন, আমি আমার পিতা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নামাজে শৈথিল্য বা অবহেলার পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলাম। তখন তিনি ইরশাদ করেন যে, নামাজে অবহেলার কয়েকটি গুরুতর ও বেদনাদায়ক পরিণতি রয়েছে—

১. আয়ু ও রিজিকের বরকত হ্রাস

যে ব্যক্তি নামাজকে হালকা বা তুচ্ছ মনে করে, আল্লাহ তায়ালা তার জীবন ও রিজিক থেকে বরকত তুলে নেন। তার আয়ুতে কল্যাণ থাকে না এবং উপার্জন থাকলেও তাতে প্রশান্তি ও তৃপ্তি অনুপস্থিত থাকে।

২. দোয়া কবুল না হওয়া

এমন ব্যক্তির দোয়া আসমানের দিকে উঠানো হয় না। এমনকি যদি নেককার বান্দা ও আল্লাহর ওলিরা দোয়া করেন, তাতেও তার কোনো অংশ থাকে না। সে আর সৎকর্মশীল ও দোয়া-কারীদের তালিকাভুক্ত থাকে না; যেন তার নাম দোয়ার খাতা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে।

৩. মৃত্যু ও কবরের কঠিন কষ্ট

নামাজে অবহেলাকারীর মৃত্যু হবে তীব্র তৃষ্ণা ও ক্ষুধার সঙ্গে। কবরের জীবনে সে চাপ, অন্ধকার ও সংকীর্ণতার যন্ত্রণার সম্মুখীন হবে। তার কবর হবে অস্বস্তিকর ও কষ্টে পরিপূর্ণ।

৪. কিয়ামতের দিনে কঠিন হিসাব

কিয়ামতের দিন তার হিসাব হবে অত্যন্ত কঠিন ও ভারী। নামাজে অবহেলার প্রতিটি দিক সেদিন ভয়াবহ রূপে তার সামনে উপস্থিত হবে এবং তাকে চরম বিপদের মুখে ফেলবে।

হযরত ফাতিমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা)-এর এই মূল্যবান বাণী আমাদের জন্য এক অনন্য সতর্কবার্তা। এটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, নামাজ কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয়; বরং এতে অন্তরের উপস্থিতি, নিয়মিততা ও পূর্ণ যত্ন অপরিহার্য। নামাজে অবহেলা মানুষের দুনিয়াবি জীবন থেকে বরকত ছিনিয়ে নেয় এবং আখিরাতে ডেকে আনে ভয়াবহ পরিণতি। অতএব, প্রতিটি মুমিনের উচিত নামাজকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দেওয়া এবং তা যথাযথ গুরুত্ব ও খুশু-খুজুর সঙ্গে আদায় করা।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button