ব্যক্তিত্বই দায়িত্ববোধের জন্ম দেয়
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: আজকের শিশু আগামী দিনের সমাজ ও উম্মাহর ভবিষ্যৎ। কিন্তু আমরা প্রায়ই চাই, আমাদের সন্তানরা দায়িত্বশীল হোক, শৃঙ্খলাবান হোক এবং জীবনে বড় কাজের ভার নিতে শিখুক—অথচ তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনের দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিই না। ইসলামি চিন্তাবিদরা এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেছেন, ব্যক্তিত্ব ছাড়া দায়িত্ববোধ জন্ম নেয় না। শিশু–কিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে দায়িত্ব দেওয়ার আগেই তাদের ব্যক্তিত্বকে দৃঢ় করতে হবে।
ব্যক্তিত্ব ও দায়িত্ববোধের সম্পর্ক
বিশিষ্ট আলেম ও চিন্তাবিদ আয়াতুল্লাহ হায়েরী শিরাজী (রহ.) বলেন— প্রথমে শিশুকে ব্যক্তিত্ব দিতে হবে, তারপর তার কাছ থেকে দায়িত্ব আশা করা যেতে পারে। দায়িত্ব যত বাড়বে, ব্যক্তিত্বও তত বেশি দৃঢ় করতে হবে।
এই কথার অর্থ খুবই গভীর। কোনো শিশুকে যদি আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধ না শেখানো হয়, তাহলে তার ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া তাকে গড়ে তোলে না; বরং ভীত, দ্বিধাগ্রস্ত ও আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে।
ব্যক্তিত্বহীন শিশুর সীমাবদ্ধতা
যে শিশুর নিজের অস্তিত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে সচেতনতা নেই, সে দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে চায়। কারণ দায়িত্ব মানে সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভুলের দায় স্বীকার করা এবং স্থির থাকা—যা কেবল পরিপক্ব ব্যক্তিত্ব থেকেই আসে। তাই বলা যায়,
যে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে না, সে দায়িত্বশীল হতে পারে না। ইসলাম কখনোই দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয় না; বরং ধীরে ধীরে সক্ষম করে তোলার শিক্ষা দেয়।
কীভাবে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলব?
শিশু–কিশোরদের ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য কয়েকটি বিষয়ের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—
১. সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া
শিশুকে তুচ্ছ না করে তার মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে তার আত্মমর্যাদা তৈরি হয়।
২. বয়স অনুযায়ী দায়িত্ব দেওয়া
হালকা দায়িত্ব দিয়ে শুরু করতে হবে—যেমন নিজের কাজ নিজে করা, সময়ের প্রতি সচেতন থাকা, ছোট সিদ্ধান্ত নেওয়া।
৩. ভুলকে শেখার সুযোগ হিসেবে দেখা
ভুল করলে অপমান নয়, বরং সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। এতে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জন্ম নেয়।
৪. ইসলামি আদর্শে পরিচয় গড়া
নামাজ, দোয়া, নবী–রাসুল ও আহলে বাইতের (আ.) জীবনচর্চা শিশুর পরিচয় ও আদর্শ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দায়িত্ব বৃদ্ধি মানেই ব্যক্তিত্বের বিস্তার
আয়াতুল্লাহ হায়েরী শিরাজী (রহ.) আরও বলেন, দায়িত্ব যত বাড়ে, ব্যক্তিত্বও তত গভীর হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, শিশু বড় হলে শুধু দায়িত্ব বাড়ালেই হবে না; তার মানসিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও নৈতিক দৃঢ়তাও বাড়াতে হবে।
উপসংহার
শিশু–কিশোরদের দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রথম কাজ হওয়া উচিত তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে মনোযোগ দেওয়া। আত্মমর্যাদা, বিশ্বাস, চিন্তাশক্তি ও ইসলামি মূল্যবোধে সমৃদ্ধ শিশুই ভবিষ্যতে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিতে সক্ষম হবে। আজ যদি আমরা ব্যক্তিত্ববান শিশু গড়ে তুলতে পারি, তবে আগামী দিনে আমরা পাব দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ ও আল্লাহভীরু মানুষ।
সূত্র: আয়াতুল্লাহ হায়েরী শিরাজী (রহ.), রাহে রুশদ, খণ্ড–৪, পৃষ্ঠা ২১০।



