জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদবিশ্ব

যদি গর্ভস্রাব অনিচ্ছাকৃত হয়, তবে কি ভ্রূণ পরকালের দিনে আপন মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উপস্থিত করবে?

ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মিডিয়া মিহির: এক প্রাজ্ঞ আলেমের বক্তব্য অনুসারে, অনিচ্ছাকৃত গর্ভস্রাবের ক্ষেত্রে মাতা কেবলমাত্র তাঁর সামান্য অবহেলার জন্য দায়ী হতে পারেন; কিন্তু যেহেতু তাঁর মনে কোনো কুটিল উদ্দেশ্য ছিল না, তাই স্রাব নিজেই তাঁর পাপ নয় এবং ভ্রূণও পুনরুত্থানের দিনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে না।

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মোহাম্মদী শাহরূদি এক প্রশ্নোত্তর পর্বে “গর্ভস্রাব বিষয়ে মাতার দায়িত্ব” শীর্ষক আলোচনায় যে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তা আপনাদের সম্মুখে নিবেদন করা হলো।

প্রশ্ন: গর্ভধারণের পূর্বে বা গর্ভাবস্থায় আমি প্রয়োজনীয় যত্ন–আত্তি করিনি। পরে আমার কিছু অসুবিধা দেখা দেয় এবং সন্তানটি স্রাব হয়ে যায়। পুনরুত্থানের দিনে কি এই সন্তান আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করবে? তার কি আমার ওপর কোনো অধিকার বর্তায়?

উত্তর:

১. প্রথম খণ্ড: অবহেলার প্রসঙ্গ

যদি সত্যই অসতর্কতা বা অবহেলা ঘটে থাকে—যেমন নিষিদ্ধ খাদ্য বা ওষুধ গ্রহণ, অথবা প্রয়োজনীয় পরিচর্যার অভাব—তবে ঐ পরিমাণেই আপনি দায় বহন করবেন।

অর্থাৎ যেখানে সতর্ক থাকা কর্তব্য ছিল, সেখানে ঘাটতি থাকলে দুনিয়াতেই তার প্রতিকার প্রয়োজন—ইস্তিগফার করা ও ভবিষ্যতে অধিক সতর্কতার অঙ্গীকার নেওয়া।

তবে এটিকে ইচ্ছাকৃত পাপ বলা যাবে না; কারণ আপনার উদ্দেশ্য ছিল না ক্ষতিসাধন।

২. দ্বিতীয় খণ্ড: গর্ভস্রাবের দায়

মাতা যদি সচেতনভাবে ও ইচ্ছাপূর্বক গর্ভস্রাব না করেন এবং তাঁর কোনো আচরণে স্রাব হবে—এ ধারণাও যদি মনে না থাকে, তবে গর্ভস্রাবের জন্য তিনি পাপিনী বা দায়বদ্ধ নন।

কিয়ামত ও ভ্রূণের অবস্থান

চার মাস বা তার অধিক বয়সে যখন রূহ ভ্রূণে সঞ্চারিত হয়, তখন সে বারযাখে এক প্রকার জ্ঞানবোধ লাভ করে। সে অবহিত থাকে যে মাতা কোনো কুবুদ্ধি পোষণ করেননি; অতএব সে কিয়ামতের দিনে অভিযোগও আনবে না।

আর চার মাসের কম হলে জ্ঞান–সংবেদনার প্রশ্নই ওঠে না।

অতএব মাতার আশঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। যে যতটুকু অসাবধানতা হয়েছে, তা দুনিয়ার তওবা ও সংশোধনের মাধ্যমে মোচনযোগ্য; আর মনোভাব যেহেতু অপকারী ছিল না, তাই পরকালে এর দায়ভার তাঁর ওপর বর্তাবে না।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button