আফগানিস্তানের মুবাল্লিগদের জন্য ড. আলীজাদেহ মুসাভীর ফাতিমিয়া বিশেষায়িত কর্মশালা
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
মিডিয়া মিহির: আফগানিস্তানি মুবাল্লিগদের জন্য আয়োজিত ফাতিমিয়া বিশেষায়িত কর্মশালায় বাংলাদেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. আলীজাদেহ মুসাভী ফাতিমিয়া সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্ন, আপত্তি ও ভুল ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেন। তিনি হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)–এর ব্যক্তিত্বকে কেবল আবেগনির্ভর ও একমাত্রিকভাবে উপস্থাপনের প্রচলিত ধারা সমালোচনা করে বলেন, এমন সরলীকৃত উপস্থাপন সেই মহীয়সী ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রতি বড় ধরনের অবিচার।
ড. আলীজাদেহ মুসাভী জোর দিয়ে বলেন, হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)–এর সঠিক পরিচয় বোঝার জন্য তাঁর ব্যক্তিত্বকে সভ্যতাভিত্তিক, মৌলিক, এবং বিশ্বজনীন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে হবে। তাঁর মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর ইন্তেকালের পর নবগঠিত ইসলামী সভ্যতা চরম সংকটে পড়ে; সেই সংকটময় সময়ে হযরত ফাতিমা (সা.) ইসলামী সভ্যতার মৌলিক উপাদানগুলো পুনঃসংজ্ঞায়িত ও শক্তিশালী করে তা রক্ষা করেন।

তিনি ফাতেমিয়া-সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোকে ঐতিহাসিক, কালামি, এবং আবেগভিত্তিক—এই তিন ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি ক্ষেত্রে উপযুক্ত গবেষণাধর্মী পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্য উৎস ব্যবহারের গুরুত্ব উল্লেখ করেন। আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি অধ্যয়ন-উপযোগী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসও সুপারিশ করেন, যেমন—
-
আয়াতুল্লাহ নাজমুদ্দিন তাবাসির «پاسخ به چند شبهه فاطمی» (ফাতেমিয়া-সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর),
-
হাওজায়ে ইলমিয়া কোমের ‘দফ ও রাফ’ গবেষণা-বইচি,
-
এবং «مرجعیت علمی حضرت زهرا» সিরিজের গবেষণাধর্মী ভিডিওসমূহ।
কর্মশালার ইলমি গভীরতা, বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা এবং ব্যবহারিক নির্দেশনার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে এটিকে সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম সমৃদ্ধ ও প্রয়োজনীয় আয়োজন হিসেবে অভিহিত করেন। আশা করা হচ্ছে, এ কর্মশালার প্রাপ্ত জ্ঞান আগামীর ফাতেমিয়া অনুষ্ঠানের মান উন্নয়নে—বিশেষত আফগান শরণার্থী সম্প্রদায় এবং অন্যান্য ফারসিভাষী শ্রোতার মধ্যে—গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




