কুরআনজীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদ

সামাজিক পরিবেশে শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কার্যকর উপায়

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

মিডিয়া মিহির: শিশুর ভালো কাজগুলোকে মূল্যায়ন ও উৎসাহ দেওয়া তাদের আত্মবিশ্বাস রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অভিভাবকদের উচিত পরিপূর্ণতাবাদ থেকে দূরে থেকে সন্তানের ইতিবাচক দিকগুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

প্রশ্ন

অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে তাঁদের সন্তানরা পারিবারিক অনুষ্ঠান বা বিদ্যালয়ের মত সামাজিক পরিবেশে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, যা অনেক সময় হতাশা ও হীনমন্যতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধান কী?

উত্তর

১. আত্মবিশ্বাস কমার মূল কারণ: ব্যক্তিত্বগত শূন্যতা

শিশুর আত্মবিশ্বাস সাধারণত তখনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যখন তারা নিজেদের গুরুত্বহীন মনে করে।
উদাহরণস্বরূপ—

  • তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা,

  • কোনো অনুরোধকে গুরুত্ব না দেওয়া,

  • ভাল কাজের প্রশংসা না করা,

  • অথচ এক সামান্য ভুলের জন্য বারবার তিরস্কার করা—

এসব আচরণ শিশুদের মনে এই ধারণা সৃষ্টি করে যে তারা মূল্যহীন ও অযোগ্য। এর ফলে তাদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে।

২. ভালো কাজের তাৎক্ষণিক প্রশংসা অপরিহার্য

শিশুরা যদি ১০টি ভালো কাজ করেও প্রশংসা না পায়, অথচ একটি মাত্র ভুলের জন্য সবার দৃষ্টি সেই ভুলের দিকে কেন্দ্রীভূত হয়— তখন তারা নিরাপত্তা ও ভালোবাসার পরিবেশ হারিয়ে ফেলে। এতে আত্মবিশ্বাস হ্রাস পায়।

অতএব, শিশুকে বুঝতে দিতে হবে যে—
“আমরা তোমার ভালো কাজগুলো দেখি, মূল্য দিই এবং তোমার প্রতি গর্ববোধ করি।”

ইসলামেও মানবিক মর্যাদা ও সম্মানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে তাদের ইতিবাচক গুণগুলোকে সামনে আনতে হবে।

৩. মনোযোগ ও সহমর্মিতা: আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি

শিশু যখন কথা বলে, তাকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মনোযোগ-সহ শুনে সহমর্মিতার সাথে প্রতিক্রিয়া জানালে শিশুর মনে মূল্যবোধ তৈরি হয়।

অভিভাবকদের উচিত—

  • ভালো কাজগুলো বেশি করে খুঁজে বের করা,

  • সেগুলোর প্রশংসা করা,

  • এবং ছোট ভুলগুলোকে বড় করে না দেখা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— পরিপূর্ণতার মানসিকতা ত্যাগ করা।

৪. পরিপূর্ণতাবাদ নয়, উৎসাহ দিন

যদি কোনো শিশু ২০-এ ১৭ নম্বর পায়, তাকে বলা উচিত— “খুব ভালো, তুমি চেষ্টা করেছ। আরও উন্নতির সুযোগ আছে।” এটা বলা মোটেও উচিত নয়— “১৭ কোনো কাজের নম্বর নয়।”

প্রশংসা প্রচেষ্টা বাড়ায়, তিরস্কার আগ্রহ কমায়।

৫. ইসলামি দৃষ্টিকোণ: সুসংবাদ আগে, সতর্কতা পরে

অনেক অভিভাবক মনে করেন শিশুর দুর্বলতা বারবার মনে করিয়ে দিলে সে উন্নতি করবে। বাস্তবে হয় এর বিপরীত— দুর্বলতাই আরও দৃঢ় হয়। যখন আমরা ভালো কাজকে উৎসাহ দিই, শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সে স্বাভাবিকভাবেই ভুলগুলো সংশোধনের চেষ্টা করে।

কুরআনেও দেখা যায়— সুখবর (বেশারাত) সবসময় সতর্কবাণীর (ইনজার) আগে এসেছে। এটি একটি ইতিবাচক শিক্ষাদানের মূলনীতি।

৬. ভুলকে আচরণ হিসেবে দেখান, ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়

শিশু যদি ভুল করে, বলা উচিত— “এই কাজটি ভুল হয়েছে।” কিন্তু একদমই বলা উচিত নয়— “তুমি সবসময় এমন” বা
“তোমার চরিত্রই এমন।”

কারণ এ ধরনের মন্তব্য শিশুর ব্যক্তিত্বে আঘাত করে এবং তার আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দেয়।

সারসংক্ষেপ

  • ভালো কাজের প্রশংসা করুন

  • ভুলের জন্য ব্যক্তিত্ব নয়, কাজকে সমালোচনা করুন

  • মনোযোগ দিয়ে কথা শুনুন

  • পরিপূর্ণতাবাদ পরিহার করুন

  • ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করুন

  • শিশুকে সম্মান দিন

ভালোবাসা, মনোযোগ ও ইতিবাচক আচরণের মধ্য দিয়ে শিশুর আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button