জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদবিশ্বস্বাস্থ্য পরামর্শ

শরৎকালে সর্দি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে জীবনযাপনে সতর্কতার আহ্বান

ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মিডিয়া মিহির: শরৎ ঋতুর শুরুতে ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির সঙ্গে জীবনযাপন সামঞ্জস্য না করলে সর্দি-কাশি ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন হামেদান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রথাগত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, এই ঋতুতে খাদ্য, পোশাক ও দৈনন্দিন অভ্যাসে সচেতন পরিবর্তনই হতে পারে মৌসুমি রোগ প্রতিরোধের প্রধান চাবিকাঠি।

হামেদান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ সদস্য ও প্রথাগত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. মামাক হাশেমি শরৎ ঋতুর শুরুতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, শরৎ এমন একটি ঋতু যার প্রকৃতি শীতল ও শুষ্ক। ফলে এই সময়ে খাদ্যাভ্যাস, পোশাক নির্বাচন এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি—যাতে সর্দি ও অন্যান্য মৌসুমি রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, শরৎকালে দিনের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট থাকে। সকাল ও সন্ধ্যায় ঠান্ডা অনুভূত হলেও দুপুরে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এ কারণে উপযুক্ত পোশাক নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, যাদের শরীর দ্রুত তাপমাত্রার পরিবর্তনে প্রভাবিত হয়।

ডা. হাশেমির মতে, শিক্ষার্থীদের স্কুলে এবং ভিড়পূর্ণ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বিভিন্ন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে পরিবারগুলোর জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শরৎ শুরুর সময় একটি সাধারণ ভুল হলো গ্রীষ্মকালীন ঠান্ডা প্রকৃতির ফলমূল খাওয়া অব্যাহত রাখা। অথচ এসব খাদ্য শরতের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একইভাবে, গ্রীষ্মকালে প্রচলিত অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পান করার অভ্যাসও ধীরে ধীরে পরিত্যাগ করা উচিত এবং তার পরিবর্তে কুসুম গরম বা পরিমিত উষ্ণ পানীয় গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এই প্রথাগত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ইরানি খাদ্যসংস্কৃতিতে শরৎ ও শীতকালে অতিরিক্ত টকজাতীয় খাবার গ্রহণ একটি প্রচলিত কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত অভ্যাস। প্রথাগত চিকিৎসাবিদ্যার দৃষ্টিতে টক খাবার শরতের শীতল ও শুষ্ক প্রকৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং অতিরিক্ত গ্রহণ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, ফলে অসুস্থতার আশঙ্কা বাড়ে।

তিনি পরিবারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, টকজাতীয় খাবারের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে উষ্ণ ও পরিমিত প্রকৃতির খাবার গ্রহণ করা উচিত।

শিশুদের খাদ্যব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. হাশেমি বলেন, গ্রীষ্মকালে অনেক শিশু নিয়মিত আইসক্রিম খাওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু শরৎ আসার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস সংশোধন করা প্রয়োজন। এ সময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার শিশুদের শরীরকে ভাইরাস সংক্রমণের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। এর পরিবর্তে শরীরকে উষ্ণতা ও পুষ্টি জোগায়—এমন তরল ও হালকা খাবার যেমন স্যুপ ও ঝোলজাতীয় খাবার বেশি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

হামেদান মেডিকেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষদ সদস্য আরও বলেন, শরতের সকাল ও সন্ধ্যায় শরীরের আবরণ—বিশেষ করে মাথা ঢেকে রাখা—মৌসুমি রোগ প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সময় ঠান্ডা বাতাস শরীরের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এবং সর্দি ও ইনফ্লুয়েঞ্জার ঝুঁকি বাড়ায়।

শেষে ডা. মামাক হাশেমি বলেন, প্রথাগত চিকিৎসাবিদ্যা বিশ্বাস করে—ঋতুর পরিবর্তনের সঙ্গে জীবনযাপনের সামঞ্জস্য স্বাস্থ্য রক্ষায় নির্ণায়ক ভূমিকা রাখে। শরৎ ঋতুর উপযোগী খাদ্যাভ্যাস, ঠান্ডা ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ খাবার পরিহার, উষ্ণ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ এবং তাপমাত্রার পরিবর্তন থেকে শরীরকে সুরক্ষিত রাখলে মৌসুমি রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর মাধ্যমে শীতল মাসগুলোতে মানুষের জীবনমানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button