জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদবিশ্ব

রজব মাসের প্রথম রজনী ও দিনের শ্রেষ্ঠ আমলসমূহ

ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মিডিয়া মিহির: রজব মাসের প্রথম রাত্রি ও দিনকে ঘিরে নির্দিষ্ট আমলসমূহ পালন করা শুধু ইবাদতের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এই অফুরন্ত বরকতময় মাসের আধ্যাত্মিক গভীরতা ও মহিমা উপলব্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইসলামি রেওয়ায়েতসমূহে এই সময়ের ইবাদতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রজব মাস ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম পবিত্র ও বরকতময় মাস—যার অন্তরে সঞ্চিত রয়েছে অগণিত ফজিলত ও রহমত। মাসের সূচনালগ্নে ইমাম মুহাম্মদ বাকির (আ.)-এর জন্ম এবং মধ্যভাগে আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর জন্ম এই মাসকে আরও নূরানী ও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলেছে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) রজব মাসের ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন:

«رَجَبٌ شَهرُ اللّهِ الأصَبُّ یَصُبُّ اللَّهُ فِیهِ الرَّحْمَةَ عَلی عِبادِهِ»

অর্থাৎ, রজব হলো আল্লাহর মাস—এ মাসে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর অবিরাম রহমত বর্ষণ করেন। এই কারণেই মহানবী (সা.) মুসলমানদেরকে এই মাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও এর ফজিলত অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রজব মাস আগমন করলে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলমানদের একত্রিত করে খুতবা দিতেন এবং বলতেন: হে মুসলমানগণ! এক মহান ও বরকতময় মাস তোমাদের ওপর ছায়া বিস্তার করেছে। এটি রহমতের মাস—মুশরিক ও দ্বীনে বিদআত সৃষ্টিকারী ব্যতীত সবার জন্য।এরপর তিনি এই পবিত্র মাসের প্রথম রাত্রি ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতেন।

রজব মাসের প্রথম রজনীর আমলসমূহ

১. চাঁদ দেখার দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সা.) রজব মাসের নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পাঠ করতেন:

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِی رَجَبٍ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا شَهْرَ رَمَضَانَ وَ أَعِنَّا عَلَى الصِّیَامِ وَ الْقِیَامِ وَ حِفْظِ اللِّسَانِ وَ غَضِّ الْبَصَرِ وَ لا تَجْعَلْ حَظَّنَا مِنْهُ الْجُوعَ وَ الْعَطَشِ.

২. গোসল করা
নবী করিম (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি রজব মাস পায় এবং এর শুরুতে, মধ্যভাগে ও শেষে গোসল করে, সে এমন হয়ে যায় যেন সদ্য মায়ের গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে—তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”

৩. ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত

৪. প্রথম রজনীর বিশেষ নামাজ
মাগরিবের নামাজের পর ২০ রাকাত নামাজ (১০টি দুই রাকাত করে) আদায় করা।

৫. এশার পর দুই রাকাত নামাজ

১.প্রথম রাকাতে: সূরা হামদ, ১ বার সূরা ইনশিরাহ, ৩ বার সূরা তাওহীদ

২.দ্বিতীয় রাকাতে: সূরা হামদ, ১ বার ইনশিরাহ, ১ বার তাওহিদ, সূরা নাস ও সূরা ফালাক নামাজ শেষে ৩০ বার «لا إِلَهَ إِلَّا الله» এবং ৩০ বার দরুদ পাঠ করা—যার ফলে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করা হয়।

রজব মাসের প্রথম দিনের আমলসমূহ

১. রোজা রাখা
এই দিনে রোজা রাখা বিশেষভাবে সুন্নত। বর্ণিত আছে, হযরত নূহ (আ.) এই দিনে তাঁর কিশতিকে পানিতে ভাসান এবং সঙ্গীদের রোজা রাখার নির্দেশ দেন। যে ব্যক্তি এই দিনে রোজা রাখে, সে এক বছরের পথ পরিমাণ জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে থাকে।

২. গোসল করা
এই দিনের গোসল আত্মিক ও বাহ্যিক পবিত্রতার প্রতীক। রজবের শুরু, মধ্য ও শেষে গোসল করলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়—যেমন সদ্যোজাত শিশুর।

৩. ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জিয়ারত
এই দিনে জিয়ারত করলে অন্তর আরও প্রশান্ত হয় এবং আহলে বাইতের স্মরণে হৃদয় আলোকিত হয়।

৪. প্রথম দিনের বিশেষ নামাজ
মাগরিবের পর ২০ রাকাত নামাজ (১০টি দুই রাকাত করে) আদায় করা—যা এই মাসের সুন্নত আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

৫. এশার পর দুই রাকাত নামাজ
রাত্রির মতোই একই সূরা ও জিকির আদায় করা হবে—যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এই আমলসমূহ রজব মাসে আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর রহমত আকর্ষণ এবং বরকত লাভের এক শক্তিশালী মাধ্যম। এগুলো মানুষকে তাকওয়া ও ইবাদতের পথে অগ্রসর করে এবং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে সজীব ও জাগ্রত রাখে।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button