কুরআন শিক্ষাতাফসীরধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদ

মহাপবিত্র সত্তা আল্লাহকে পরামর্শ দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়: আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর, ২০২৫

মিডিয়া মিহির: ইরানের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও মারজায়ে তাকলীদ আয়াতুল্লাহিল উজমা জাওয়াদী আমুলী বলেন, মানুষের উচিত আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে মূলত কল্যাণ কামনা করা—কারণ আল্লাহর প্রজ্ঞা নির্ভুল ও পরম। তিনি যা নির্ধারণ করেন, তা মানুষের প্রকৃত মঙ্গলের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করেন। যদি কিছু চাইতেও হয়, তবে সেটিও যেন কল্যাণের প্রার্থনার অন্তর্ভুক্ত হয়। পবিত্র সত্তা আল্লাহর কাছে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় প্রস্তাব করা বা চাপিয়ে দেওয়ার মতো আচরণ শোভনীয় নয়

তিনি ব্যাখ্যা করেন, অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতাবশত কোনো বিশেষ বিষয় হৃদয়ের আবেগ, অশ্রু বা তীব্র আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। কিন্তু মানুষ জানে না—যে বিষয়টিকে সে ভালো মনে করছে, তা হয়তো তার জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়। আল্লাহ তাআলা নিজেই কুরআনে সতর্ক করেছেন—

وَعَسَىٰ أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ
“হয়তো তোমরা কোনো বিষয়কে ভালোবাসো অথচ সেটি তোমাদের জন্য ক্ষতিকর।” [সূরা বাকারাহ: ২১৬] 

আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী এখানে সাহিফা সাজ্জাদিয়ার একটি আধ্যাত্মিক ও গভীর বাক্যের উদ্ধৃতি দেন—

یا مَن لا تُغَیِّرُ حِکْمَتَهُ الوَسَائِلُ
“হে সেই সত্তা, যার প্রজ্ঞা কোনো মাধ্যম দ্বারা পরিবর্তিত হয় না।”

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর অপরিবর্তনীয় হিকমত বা প্রজ্ঞার আলোকে সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা করেন। মানুষের আকাঙ্ক্ষা, আবেগ ও নানা রকম প্রার্থনা—এসবের কোনোটি আল্লাহর বিধান বা প্রজ্ঞাকে পরিবর্তন করতে পারে না। তাই ইবাদত ও প্রার্থনায় শুদ্ধ পদ্ধতি হলো—আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য নিবেদন করা।

এ কারণেই যখন মানুষ আল্লাহর কাছে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় চায়, তখন সেটির ভাষা হওয়া উচিত বিনম্র ও কল্যাণনির্ভর— “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছ থেকে কল্যাণ চাই। যদি এই বিষয়টিতে আমার জন্য কল্যাণ নিহিত থাকে, তবে আপনি সেটিই আমার জন্য নির্ধারণ করুন।”

তিনি তাঁর কুরআন তাফসিরভিত্তিক পাঠক্রমের একটি অধিবেশনে— আলোচনাটি উপস্থাপন করেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেন যে, আল্লাহর সিদ্ধান্ত সবসময় তাঁর চূড়ান্ত প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মানুষ জানে না, কিন্তু আল্লাহ জানেন— কোনটি তার জন্য মঙ্গল, কোনটি অমঙ্গল। তাই আল্লাহর নিকট দোয়ার সর্বোত্তম রীতি হচ্ছে— নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর জ্ঞানের হাতে সমর্পণ করা এবং কেবল সেই বিষয়ই চাওয়া, যাতে কল্যাণ নিহিত আছে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলী আল্লাহর প্রতি প্রকৃত নির্ভরতা, আস্থা ও বিনম্রতার দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁর মতে, একজন মুমিনের প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষাকে সব সময় কল্যাণের ছাঁচে গড়ে তোলা উচিত— এবং সেটিই আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ভরসা ও আত্মসমর্পণের নির্ভুল পথ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button