বেলায়াতে ফকিহ—সমাজের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথপ্রদর্শক
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: সমসাময়িক সংকটময় বাস্তবতায় সমাজের শান্তি ও দিশা নির্ধারণে বেলায়াতে ফকিহ একটি মৌলিক ভিত্তি—এমনটাই মনে করেন কোমের হাওজা ইলমিয়ার উচ্চতর স্তরের শিক্ষক হুজ্জাতুল ইসলাম রুহি কোরে-চাপঘ। ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর একটি বর্ণনার আলোকে তিনি বেলায়াতে ফকিহকে ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ও সামাজিক প্রশান্তি অর্জনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
হুজ্জাতুল ইসলাম কোরবান রুহি কোরে-চাপঘ—যিনি কোম হাওজা ইলমিয়ার উচ্চতর স্তরের অন্যতম শিক্ষক—বেলায়াতে ফকিহের প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইসলাম শুধু ইবাদত বা নৈতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে, যা পূর্ণাঙ্গ দ্বীনদারির পরিপূরক।
তিনি বলেন, সংবেদনশীল ও সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে ওলি-ই ফকিহের প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ইসলামের বিভিন্ন স্তর রয়েছে—আহকাম, আখলাক ও আকিদা—তবে ইসলামী বিপ্লবের পর যে দিকটি বিশেষভাবে বিকশিত হয়েছে, তা হলো রাজনীতির প্রতি সচেতনতা এবং বেলায়াতে ফকিহের অনুসরণ, যা মানুষের আত্মিক ও সামাজিক পরিপূর্ণতার পথে সহায়ক।
কোম হাওজার এই প্রবীণ শিক্ষক ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, দেশের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতার জন্য বেলায়াতে ফকিহকে সমর্থন করা অপরিহার্য। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকসহ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রশান্তি অর্জনের পথ হলো—সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা ধাপে ধাপে অনুসরণ করা।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর একটি বর্ণনার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে বেলায়াতকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ স্তম্ভ এবং অন্যান্য স্তম্ভের চাবিকাঠি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার ব্যাখ্যায় তিনি স্পষ্ট করেন—নেতৃত্বের অনুসরণ শুধু ফিকহি বিধান বা নৈতিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেলায়াতে ফকিহ দ্বীনের সব মাত্রাকে পরিপূর্ণতা দান করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন হাদিসটি— যার জন্য কোনো প্রজ্ঞাবান পথপ্রদর্শক নেই, সে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়।এই বর্ণনার আলোকে তিনি ইমাম খোমেনি (রহ.) ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ীকে সেই ‘হাকিম’ বা প্রজ্ঞাবান পথনির্দেশকের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, নেতৃত্বের বক্তব্যকে সমর্থন ও অনুসরণ করলে সমাজ উন্নতি ও উৎকর্ষের পথে অগ্রসর হয়। এর মাধ্যমে আমরা একদিকে আমাদের শরয়ি দায়িত্ব পালন করি, অন্যদিকে অন্তরিক প্রশান্তিও লাভ করি।
হুজ্জাতুল ইসলাম রুহি কোরে-চাপঘ বলেন, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা—একজন ধর্মীয় মারজারূপে—একটি শরয়ি দলিল এবং দ্বীনের পরিপূর্ণতার অংশ। তার তাকওয়া, সাহসিকতা এবং ইমাম মাহদি (আ.)-এর সঙ্গে আত্মিক সংযোগ দেশকে নানা ঝঞ্ঝা ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে চলেছে।
সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর দীর্ঘায়ু ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার জন্য দোয়া করে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তাঁর অনুসরণের ব্যাপকতা সমাজকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে এবং সার্বিক প্রশান্তি উপহার দেয়।



