বিশেষ সংবাদবিশ্বসংবাদ বিশ্লেষণ

দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬

দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান

মিডিয়া মিহির: ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেয়ি সাম্প্রতিক সহিংস অস্থিরতা ও দাঙ্গায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহনশীলতা বা ছাড় দেওয়া হবে না এবং দাঙ্গাকারী কিংবা তাদের সহযোগীরা কেউই “বিভ্রান্ত হওয়ার” অজুহাত দেখাতে পারবে না।

বুধবার এক বক্তব্যে মোহসেনি-এজেয়ি বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিরতায় শত্রুপক্ষের শক্তিগুলো প্রকাশ্যেই সহিংসতাকে সমর্থন করেছে, যা পরিস্থিতিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “শত্রু প্রকাশ্যেই দাঙ্গাকারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে যারা এতে সরাসরি জড়িত, যারা তাদের সমর্থন করেছে অথবা যারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে—কারও কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তার এই মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ কয়েকজন বিদেশি নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়, যেখানে তারা ইরানকে বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে তেহরানে দোকানিরা সাময়িকভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের তীব্র দরপতনের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়, যা জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

ইরানি কর্মকর্তারা জনগণের ওপর বিদ্যমান অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ একটি বৈধ অধিকার। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলি খামেনেয়ি সম্প্রতি বলেছেন, জাতীয় মুদ্রার এই অবমূল্যায়ন “স্বাভাবিক নয়” এবং এর পেছনে “শত্রুর হাত” রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, “প্রতিবাদ বৈধ, কিন্তু প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক বিষয় নয়।”

আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহসেনি-এজেয়ি সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কিছু বিক্ষোভের পেছনে বাস্তব অর্থনৈতিক ক্ষোভ রয়েছে, বিশেষ করে মুদ্রার অস্থিরতা ঘিরে।

বিচার বিভাগের প্রধান আরও বলেন, জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানের প্রতিপক্ষরা এখন দেশের ভেতর থেকেই নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button