তওবার দুটি পাখা: আল্লাহর তাওফিক আর বান্দার আমল
ডক্টর মুহাম্মাদ ফারুক হুসাইন। প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫
মিডিয়া মিহির: তওবা কোনো ভ্রমণ বা বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; এর আসল ভিত্তি হলো মানুষের অন্তরে জন্ম নেওয়া সত্যিকারের পশ্চাতাপ। আল্লাহই মানুষকে তওবার তাওফিক দেন এবং পরে তাঁর তওবা কবুল করেন। যিকর ও ইস্তিগফার সেই অন্তর্গত অনুতাপকে দৃঢ় করার উপায়, কিন্তু তওবার মূল শিকড় নিহিত থাকে হৃদয় ও চিন্তার পরিবর্তনে।
তওবার প্রকৃত অর্থ
তওবা মানে কেবল মক্কা বা মদিনায় গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা নয়, কিংবা কোনো বিশেষ স্থানে ভ্রমণ করে গুনাহ মুছে ফেলার আশা করা নয়। প্রকৃত তওবা হলো অন্তরের গভীরে জন্ম নেওয়া অনুতাপ, যা মানুষকে নিজের ভুল স্বীকার করতে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।
অনেকেই মনে করেন, “আমি গুনাহ করব, পরে হজে গিয়ে তওবা করব” বা “মাশহাদে গিয়ে ক্ষমা চাইব।” কিন্তু এ ধরনের চিন্তা তওবার প্রকৃত অর্থকে বিকৃত করে। তওবা কোনো বাহ্যিক ভ্রমণ নয়, বরং অন্তরের পরিবর্তন।
ইস্তিগফার ও যিকরের ভূমিকা
ইস্তিগফার ও যিকর কেবল মুখের উচ্চারণ নয়; এগুলো তখনই অর্থবহ হয়, যখন অন্তরে সত্যিকারের অনুতাপ জন্ম নেয়। যেমন কেউ যদি বুঝতে পারে যে সে একটি এতিমের সম্পদ ভুল করে ব্যবহার করেছে, তখন তার অন্তরে যে পশ্চাতাপ জাগে, সেটিই প্রকৃত তওবার সূচনা।
মানুষের ভেতরের অনুভূতিগুলো—ভয়, অনুতাপ, আনন্দ বা দুঃখ—তার নিজের হাতে সৃষ্টি হয় না; বরং পরিস্থিতি ও আল্লাহর ইচ্ছায় এগুলো জন্ম নেয়। ঠিক যেমন কেউ হঠাৎ কোনো বিপদের মুখোমুখি হলে স্বাভাবিকভাবেই ভয় পায়, তেমনি গুনাহের উপলব্ধি মানুষকে অনুতাপের দিকে ঠেলে দেয়।
আল্লাহর নাম “তওয়াব”
আল্লামা তাবাতাবায়ী (রহ.) বলেন, “তওয়াব” আল্লাহর একটি নাম, যার অর্থ তিনি বারবার তওবা কবুল করেন। আবার অন্য অর্থে, আল্লাহই মানুষকে তওবার তাওফিক দেন এবং পরে তাঁর তওবা গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, মানুষ একবার তওবা করে, কিন্তু আল্লাহ দু’বার তওবা করেন—
১. প্রথমে আল্লাহ তওবার অনুপ্রেরণা দেন, অন্তরে শিহরণ জাগান। ২. পরে মানুষ তওবা করে, আর আল্লাহ সেই তওবা কবুল করেন।
এভাবেই মানুষের তওবা আল্লাহর রহমতের ছায়ায় পূর্ণতা লাভ করে।
তওবার ভিত্তি: অন্তরের পরিবর্তন
তওবা ও অনুতাপ আসলে মানুষের অন্তরের পরিবর্তন। যখন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারে, তখনই প্রকৃত তওবার সূচনা হয়। ইস্তিগফার, যিকর ও দোয়া সেই অনুতাপকে শক্তিশালী করে, কিন্তু যদি অন্তরে সত্যিকারের পশ্চাতাপ না থাকে, তবে কোনো তওবা সত্য হয় না।
উপসংহার
তওবা কোনো বাহ্যিক আচার নয়, বরং অন্তরের গভীরে জন্ম নেওয়া অনুতাপ ও আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনই এর আসল ভিত্তি। আল্লাহই মানুষকে তওবার তাওফিক দেন এবং পরে তাঁর তওবা কবুল করেন। তাই প্রকৃত তওবা হলো—ভুলের স্বীকারোক্তি, অন্তরের পরিবর্তন এবং আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসা।



