ইরানের সামরিক কমান্ডারের সতর্কবার্তা: জাতীয় ঐক্য ভাঙতে শত্রুপক্ষ কগনিটিভ যুদ্ধ জোরদার করছে
রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
মিডিয়া মিহির: ইরানের উপ-সেনা সমন্বয়ক সতর্ক করেছেন যে, জনগণ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে শত্রুপক্ষ কোমল যুদ্ধ (soft warfare) ও মনস্তাত্ত্বিক বা কগনিটিভ যুদ্ধের (cognitive warfare) সর্বোচ্চ কৌশল প্রয়োগ করছে।
ইরানের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ও উপ-সমন্বয়ক রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি শুক্রবার রাতে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, নরম যুদ্ধ বর্তমানে ইরানের সামনে থাকা সবচেয়ে গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলোর একটি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সচেতনতা, সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য এবং ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার দিকনির্দেশনার ফলে শত্রু তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে, এবং বিভেদ সৃষ্টির সব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
অ্যাডমিরাল সাইয়ারি আরও জানান, আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ইরান দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, এবং উদীয়মান হুমকি ও অপারেশনাল প্রয়োজনের ভিত্তিতে নৌবাহিনীর সক্ষমতা ক্রমাগত উন্নত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সব শাখা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং দক্ষ তরুণ বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে, যা ইরানকে প্রয়োজনীয় নৌ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নিজস্বভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা দিয়েছে।
বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি কাস্পিয়ান সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কাস্পিয়ান সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর অখণ্ড দায়িত্ব।”
তিনি কাস্পিয়ানকে “শান্তি ও বন্ধুত্বের সাগর” আখ্যা দিয়ে বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় পাঁচটি উপকূলীয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সমন্বয় ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
সাইয়ারির মতে, প্রতিবেশী দেশগুলোকে হাতে হাত ধরে কাজ করতে হবে এবং কোনো বিদেশি শক্তিকে কাস্পিয়ান অঞ্চলে প্রবেশ বা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া যাবে না। নিরাপদ পরিবেশেই কেবল অর্থনৈতিক ও কার্যকরী সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
শেষে তিনি জানান, কাস্পিয়ান সাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানি নৌবাহিনী এবং আইআরজিসি নৌবাহিনী—উভয়েই প্রয়োজনীয় সক্ষমতা রাখে।



