জীবনযাপনধর্ম ও বিশ্বাসবিশেষ সংবাদবিশ্ব

আশুরা ব্যতীত অন্যান্য সময়ে রওজা-খানি ও সীনা-জানির বিষয়ে বিপ্লবী নেতার অভিমত

রাসেল আহমেদ | প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬

আশুরা ব্যতীত অন্যান্য সময়ে রওজা-খানি ও সীনা-জানির বিষয়ে বিপ্লবী নেতার অভিমত

মিডিয়া মিহির:  রওজা-খানি ও সীনা-জানি (মাতম ও আজাদারি) হওয়া উচিত; তবে সব ধরনের শোকানুষ্ঠানে নয়। মনে রাখতে হবে, রওজা পাঠ ও কান্না—এই পবিত্র সুন্নত—সব ইমামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং কিছু নির্দিষ্ট ইমামের সাথেই এর সম্পর্ক রয়েছে।

বিপ্লবী নেতার সাংস্কৃতিক সাক্ষাৎসমূহের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো— তিনি দ্বীন ও সংস্কৃতিসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং প্রজ্ঞাপূর্ণ ও লক্ষ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য সাধারণীকরণে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের সংবেদনশীল ও মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করে। এ কারণেই তাঁর ভাষণগুলো কেবল নৈতিক উপদেশ নয়; বরং জাকের, মাদ্দাহ এবং ধর্মীয় হায়াত তথা কেন্দ্রসমূহের জন্য একটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (হাফিযাহুল্লাহ), ১৩৭০ হিজরি শামসি সনের ১৩ ইসফান্দ তারিখে ইরানের রেডিও ও টেলিভিশনের বিশেষ গ্রুপ এবং ইসলামী জ্ঞান বিভাগীয় সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে শোকানুষ্ঠানের স্থান, সীমা ও যথাযথ রূপ সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন: “রওজা-খানি ও সীনা-জানি হওয়া উচিত; তবে সব শোকানুষ্ঠানে নয়। মনে রাখবেন, রওজা পাঠ ও কান্না—এই পবিত্র সুন্নত—সব ইমামের জন্য নয়; বরং কিছু নির্দিষ্ট ইমামের সঙ্গেই এর সম্পর্ক রয়েছে। কখনো কোনো সমাবেশে কেউ রওজা পাঠ করলে কিছু মানুষের অন্তর নরম হয়ে যায় এবং তারা কেঁদে ফেলে—এতে কোনো আপত্তি নেই। তবে শোক পালন এক বিষয়, আর রওজা-খানি ও সীনা-জানির আনুষ্ঠানিক আয়োজন করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

রওজা-খানি ও সীনা-জানি মূলত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্য নির্দিষ্ট; সর্বোচ্চ কিছু ক্ষেত্রে কয়েকজন ইমামের সঙ্গে সীমিত—তাও এই ব্যাপক পরিসরে নয়। যেমন, তাসুয়া ও আশুরার দিন-রাতে বিশেষভাবে, অথবা রমজান মাসের একুশ তারিখে সীনা-জানি, শোকানুষ্ঠান ও মজলিস আয়োজন করা উপযুক্ত। কিন্তু উদাহরণস্বরূপ, ইমাম মূসা ইবনে জাফর (আ.)-এর শাহাদাত—যদিও তা রওজা পাঠযোগ্য শাহাদাতের অন্তর্ভুক্ত—তবু আমি সীনা-জানিকে অপরিহার্য মনে করি না। আবার হযরত ফাতিমা যাহরা (সা.আ.)-এর শাহাদাতবার্ষিকীতে নওহা পাঠ ও সীনা-জানি করা সমীচীন নয়; বরং তাঁর মুসিবত ও দুঃখজনক ঘটনাবলি বর্ণনা করাই অধিক উপযোগী। মুসিবতের বর্ণনাই স্বয়ং কান্না উদ্রেককারী।”

তিনি আরও বলেন, “আমি নিজে মুহাররম মাসে যখন রওজার মজলিসে যেতে পারি না, তখন হাজী শাইখ আব্বাস কুম্মী রচিত আরবি গ্রন্থ ‘নাফসুল-মাহমূম’ পাঠ করে আমার অন্তরের সেই শোক ও ভালোবাসার তৃষ্ণা মেটাই। এই গ্রন্থ নিজেই কান্না জাগানো এবং আমার জন্য একাধিক রওজা-খানির কাজ করে দেয়। সব সময় শোক পালন ঐতিহ্যবাহী রওজা-খানির কাঠামোতেই হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং ঘটনাবলি বর্ণনা করুন। যেমন, কেউ যদি সুন্দর ভাষা ও বিষণ্ন কণ্ঠে ইমাম মূসা ইবনে জাফর (আ.)-এর কারাবরণের কাহিনি, কারাগারের তিক্ত অভিজ্ঞতা, তাঁর শাহাদাত এবং জানাজার ঘটনা তুলে ধরে—তাহলে সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকের অন্তর স্বাভাবিকভাবেই নরম হয়ে যাবে।”

আরও পড়ুন 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button